জাতীয় সংসদে গণমাধ্যমের ভূমিকা, সাংবাদিকতার মান এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যক্তিদের পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, অতীতে গুম, খুন, ভোট কারচুপি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোকে সমর্থন করেছেন—এমন কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আবারও জায়গা পাচ্ছেন।
রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নে তিনি এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান। জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যারা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার বিপক্ষে কাজ করবে, গণতন্ত্র ধূলিসাৎ করতে কাজ করবে, সন্ত্রাসের কাজ করবে—সে যিনিই হোন, তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেটা সাংবাদিক হোক আর আমাদের রাজনীতিবিদ, বিজনেসম্যান বা চাকুরিজীবী হোক—আইনের ঊর্ধ্বে তো কেউ নয়। কাজেই কেউ যদি আইনের বিপক্ষে কাজ করে, তার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
প্রশ্ন উত্থাপনকালে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, অতীতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব ব্যক্তির একটি অংশ বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুনরায় সক্রিয় হচ্ছেন।
এ আলোচনায় অংশ নিয়ে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকও অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সাংবাদিকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানতে চান, সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তথ্য প্রকাশকারীদের বিষয়ে সরকার কোনো নীতিমালা বা তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কি না।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী জানান, সরকার মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন মোকাবিলায় কাজ করছে। তিনি বলেন, নিবন্ধিত সাংবাদিক নন—এমন ব্যক্তিদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি পর্যবেক্ষণে একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। এ সংক্রান্ত কার্যক্রম ও পরিকল্পনা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
সংসদীয় আলোচনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখার পাশাপাশি আইনের শাসন ও তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সিএ/এমআর


