মঙ্গল গ্রহে ভবিষ্যৎ মানব বসতি স্থাপনের গবেষণাকে এগিয়ে নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জ (ইউআরসি)। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দ্য মার্স সোসাইটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ২০২৬ সালের আসরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশের ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)। বিশ্বের ১৫টি দেশের ৩৮টি দলের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘ইউআইইউ মার্স রোভার টিম’।
গত ২৭ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের হ্যাঙ্কসভিলে অবস্থিত মার্স ডেজার্ট রিসার্চ স্টেশনে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর রোভার পরিচালনা, স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং মঙ্গলগ্রহ-সদৃশ পরিবেশে বিভিন্ন মিশন সম্পন্ন করার সক্ষমতার ভিত্তিতে দলগুলোর মূল্যায়ন করা হয়।
ইউআইইউর যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। সীমিত অবকাঠামো, স্বল্প বাজেট এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের নিরলস প্রচেষ্টায় দলটি ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। ২০২২ সালে ১৩তম, ২০২৩ সালে নবম, ২০২৪ সালে পঞ্চম এবং ২০২৫ সালে ষষ্ঠ হওয়ার পর এবার তারা উঠে এসেছে তৃতীয় স্থানে।
এবারের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং রানারআপ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটি। এশিয়ার একমাত্র দল হিসেবে সেরা তিনে জায়গা করে নেয় ইউআইইউ।
দলটির এবারের রোভারের নাম ছিল ‘অরিয়ন’। গ্রিক ভাষায় যার অর্থ নতুন সূচনা। এই রোভারের জন্য সম্পূর্ণ নতুন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার আর্কিটেকচার তৈরি করা হয়। দলটির সদস্যরা জানান, পুরোনো নকশা বাদ দিয়ে নতুন প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরির সিদ্ধান্ত ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, তবে সেটিই শেষ পর্যন্ত সাফল্যের পথ তৈরি করেছে।
প্রতিযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন মিশনে। শুরুতেই রোভারের আইএমইউ বা অবস্থান ও দিকনির্ণয় ব্যবস্থা বিকল হয়ে যায়। মাত্র ১৫ মিনিটে সমস্যা সমাধান করে নতুন করে সিস্টেম চালু করা হয়। এরপর রোভারটি মানুষের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মরুভূমির ভেতর নিজস্ব সিদ্ধান্তে পথ খুঁজে নেয়, বাধা অতিক্রম করে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে।
সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র চার সেকেন্ড আগে চূড়ান্ত লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম হয় অরিয়ন। সাতটি লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছয়টিতে সফলভাবে পৌঁছে সর্বোচ্চ ৮৪ নম্বর অর্জন করে এবং ‘বেস্ট অটোনমাস সিস্টেম’ পুরস্কারও জিতে নেয়।
৩২ সদস্যের এই দলে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাইফ আল সাদ, মো. মুশফিকুর রহমান এবং শেখ সাকিব হোসেন। দলের উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক হাসান সারওয়ার ও সুমন আহমেদ। মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রভাষক মো. আবিদ হোসেন।
বাংলাদেশের আরও তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ও মূল পর্বে অংশ নেয়। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির দল সপ্তম, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির দল ১১তম এবং অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের দল ৩৪তম স্থান অর্জন করে।
দলের সদস্যদের মতে, তৃতীয় স্থান অর্জন বড় সাফল্য হলেও তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া।
সিএ/এমআর


