ইসলামে তওবা মানুষের আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে শুধু মুখে ক্ষমা প্রার্থনা করলেই তওবা পূর্ণতা পায় না। ইসলামী শিক্ষায় তওবা কবুল হওয়ার জন্য কয়েকটি মৌলিক শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামী পণ্ডিতদের মতে, পাপ সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। এক ধরনের পাপ আল্লাহর হকের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেমন নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতে অবহেলা। অন্য ধরনের পাপ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করার সঙ্গে সম্পর্কিত, যেমন কারও সম্পদ আত্মসাৎ, গিবত বা অপবাদ দেওয়া।
আল্লাহর হকসংক্রান্ত গুনাহ থেকে তওবা করার জন্য তিনটি বিষয় অপরিহার্য। প্রথমত, সংশ্লিষ্ট পাপকাজ সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করা। দ্বিতীয়ত, নিজের ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে আর সেই পাপ না করার দৃঢ় অঙ্গীকার করা।
ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, কেউ যদি পাপের কাজ অব্যাহত রেখেই তওবা করতে থাকে, তাহলে সেই তওবা প্রকৃত অর্থে গ্রহণযোগ্য হয় না। কারণ তওবার অর্থই হলো পাপ থেকে ফিরে এসে আল্লাহর পথে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া।
অনুতাপকে তওবার অন্যতম মূলভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিজের ভুল উপলব্ধি করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আন্তরিকতা তওবার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘অনুতপ্ত হওয়াই তওবা’। (সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস: ৪২৫২)
তৃতীয় শর্ত হলো ভবিষ্যতে একই পাপ থেকে দূরে থাকার সংকল্প। তবে তওবার পর দুর্বলতার কারণে কেউ আবারও পাপে জড়িয়ে পড়লে তার জন্য নতুন করে তওবার দরজা খোলা থাকে। আন্তরিকতার সঙ্গে বারবার তওবা করা ইসলামে উৎসাহিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যদি পাপ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে একটি অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত হয়। সেটি হলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া বা তার কাছ থেকে ক্ষমা লাভ করা।
অর্থসম্পদ আত্মসাতের ক্ষেত্রে তা ফেরত দিতে হবে। পাওনাদার মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আর যদি কোনো উত্তরাধিকারী না পাওয়া যায়, তাহলে তার নামে সদকা করার নির্দেশনা রয়েছে। একইভাবে অপবাদ, গালমন্দ বা অন্যায় আচরণের মাধ্যমে কারও সম্মানহানি করা হলে তার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
ইসলামী শিক্ষায় অন্যের হক আদায়ের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ আল্লাহ চাইলে নিজের অধিকারের ব্যাপারে ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে সেই ব্যক্তি ক্ষমা না করা পর্যন্ত দায়মুক্তি পাওয়া কঠিন।
সিএ/এমআর


