উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ, অনেক সময় কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ ছাড়াই এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায় না, বরং মস্তিষ্ক, কিডনি, চোখ ও রক্তনালির ওপরও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের কারণে মস্তিষ্কের রক্তনালিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা হেমোরেজিক স্ট্রোকের মতো গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
উচ্চ রক্তচাপের আরেকটি বড় শিকার হতে পারে কিডনি। কিডনির ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্ত পরিশোধনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি কিডনি বিকলের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
চোখের ক্ষেত্রেও উচ্চ রক্তচাপের প্রভাব কম নয়। রেটিনার সংবেদনশীল রক্তনালিতে ক্ষতি হলে দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে ধমনিগুলো শক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালনেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় উচ্চ রক্তচাপকে বয়সজনিত সমস্যা মনে করা হলেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি ঝোঁক এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে তরুণদের মধ্যেও এই সমস্যা দ্রুত বাড়ছে।
তাই ১৮ বছর বয়সের পর থেকেই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারে উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত লবণ পরিহার, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের মতে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতাই উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সিএ/এমআর


