বিএনপি সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে দেশের বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা ও কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কেবল বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, বরং সুসংহত পরিকল্পনা ও কার্যকর নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এই দুটি খাতকে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব।
বিমান খাতের প্রতিনিধিরা জেট ফুয়েল, বিমান লিজ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালন ব্যয়ের ওপর কর ও শুল্ক কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, উচ্চ কর কাঠামোর কারণে বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রয়েছে।
এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, “জেট ফুয়েলের প্রতিটি মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম এবং টিকিটের মূল্যকে প্রভাবিত করে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, কর ও শুল্ক হ্রাস করা হলে পরিচালন ব্যয় কমবে, যাত্রীসেবা সাশ্রয়ী হবে এবং স্থানীয় বিমান সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি দক্ষ জনবল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচালন সক্ষমতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, পর্যটন খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ রফিউজ্জামান বলেন, পর্যটন-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম, পর্যটক পরিবহন এবং আতিথেয়তা খাতে কর ছাড় দিলে নতুন বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে ই-ভিসা ব্যবস্থা চালুরও আহ্বান জানান তিনি।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আরও মনে করেন, গ্রামীণ পর্যটন, ইকো-ট্যুরিজম, নারী উদ্যোক্তানির্ভর পর্যটন উদ্যোগ এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রকল্পগুলোর জন্য পৃথক তহবিল গঠন করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি, বিনিয়োগ এবং সমন্বিত পরিকল্পনা অপরিহার্য।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে তাই এই দুই খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো এবার বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেবে।
সিএ/এমআর


