ইসলামে শপথ বা কসম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রয়োজন ছাড়া বারবার শপথ করা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে শপথ করা বৈধ হলেও অহেতুক শপথ করা মাকরুহ বলে বিবেচিত।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, “যে অধিক শপথ করে, যে লাঞ্ছিত, আপনি তার আনুগত্য করবেন না।” (সুরা কলম, আয়াত: ১০)
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি শপথ করার পর তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে তাকে কাফ্ফারা বা ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হয়। আলেমদের মতে, শপথ ভঙ্গের পর কাফ্ফারা আদায় করা ওয়াজিব। তা না করলে ব্যক্তি গুনাহগার হবেন।
শরিয়তে শপথের কাফ্ফারা আদায়ের কয়েকটি পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পদ্ধতি হলো ১০ জন দরিদ্র মানুষকে দুই বেলা পরিতৃপ্তিসহ খাবার খাওয়ানো। দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো ১০ জন অসহায় ব্যক্তিকে পোশাক প্রদান করা। এই দুই পদ্ধতির যেকোনো একটি অনুসরণ করলেই কাফ্ফারা আদায় হবে।
যদি কেউ আর্থিকভাবে এতটুকুও সক্ষম না হন, তাহলে ধারাবাহিক তিনটি রোজা রেখে কাফ্ফারা আদায় করতে পারবেন।
ইসলামি আইনবিশারদরা বলেন, কোরআন হাতে শপথ করা শরিয়তসম্মত পদ্ধতি না হলেও এ ধরনের শপথ কার্যকর হয়ে যায়। ফলে যে বিষয়ে শপথ করা হয়েছে, তা ভঙ্গ করলে কাফ্ফারা আদায় করা আবশ্যক হয়।
শপথের কাফ্ফারা আদায়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ১০ জন দরিদ্রের জন্য নির্ধারিত পুরো অর্থ এক ব্যক্তিকে একবারে দিয়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়। যদি একজন ব্যক্তিকেই পুরো অর্থ দিতে হয়, তাহলে ১০ দিনের ব্যবধানে আলাদা আলাদাভাবে তা প্রদান করতে হবে। অন্যদিকে ১০ জনকে দিলে একদিনেই দেওয়া যাবে।
ইসলামি সূত্র অনুযায়ী, শপথের কাফ্ফারা মানুষের দায়িত্ববোধ, সততা এবং কথার মর্যাদা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে।
সিএ/এমআর


