মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটির গবেষকেরা জানিয়েছেন, সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলের কাছাকাছি এলাকায় প্রায় আলোর গতিতে ছুটে চলা উচ্চশক্তিসম্পন্ন কণার সন্ধান পাওয়া গেছে। এই আবিষ্কার কসমিক রশ্মির উৎপত্তি ও গতিবিধি সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
নাসার জুনো মহাকাশযান বৃহস্পতিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত গবেষণার সময় এই কণাগুলোর উপস্থিতি শনাক্ত করে। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কণাগুলো এতটাই দ্রুতগতিসম্পন্ন যে সেগুলোর বৈশিষ্ট্য মহাজাগতিক রশ্মির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিলে যায়। এ বিষয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে।
প্রায় এক শতাব্দী আগে কসমিক রশ্মি আবিষ্কৃত হলেও এর নির্দিষ্ট উৎস নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, সুপারনোভা বিস্ফোরণ, নক্ষত্রীয় কার্যকলাপ কিংবা অন্যান্য মহাজাগতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে এসব শক্তিশালী কণার উৎপত্তি হতে পারে। নতুন গবেষণায় বৃহস্পতির চারপাশের পরিবেশকে সম্ভাব্য কণা ত্বরক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বৃহস্পতির শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও সূর্য থেকে আসা সৌর কণার প্রবাহের সংঘর্ষে ‘বো শক’ নামে পরিচিত একটি বিশেষ অঞ্চল তৈরি হয়। এই অঞ্চলে কণাগুলো দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে এবং অত্যন্ত উচ্চ গতিতে চলতে শুরু করে। জুনো মহাকাশযানের পরিমাপ অনুযায়ী, সেখানে ইলেকট্রন কণাগুলোর গতি পৃথিবীর আশপাশে দেখা অনুরূপ কণার তুলনায় অনেক বেশি।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৃহস্পতির পরিবেশে দেখা এই প্রক্রিয়া সুপারনোভা বিস্ফোরণের মতো মহাজাগতিক ঘটনার সঙ্গেও সম্পর্কযুক্ত হতে পারে। ফলে মহাবিশ্বে উচ্চশক্তির কণা কীভাবে সৃষ্টি ও ত্বরান্বিত হয়, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এ আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


