বিগত সরকারের অবহেলার কারণেই দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে টিকাদান কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালু রাখা হয়নি, যার ফলে বর্তমানে হামের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রোববার (৬ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে হামের যে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, তা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এটি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা করোনা মহামারির মতোই উদ্বেগজনক। তিনি জানান, যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেসব এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আজ থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ময়মনসিংহ ও বরিশালে এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে একযোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রথম ধাপে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে, কারণ আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই এই বয়সের শিশু।
হামের টিকার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিশুরা হাম রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে এবং টিকাদান কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।
তিনি দাবি করেন, প্রতি চার বছর অন্তর হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও বিগত সরকার এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি। তার ভাষায়, ২০২০ সালে শিশুদের জন্য এই টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি, যার ফলে শিশুস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে।
মন্ত্রী বলেন, টিকাদানে বিলম্বের কারণে কিছু শিশুর মৃত্যুও ঘটেছে, যা পূর্ববর্তী সরকারের অবহেলার ফল। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে এবং যেসব এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে, সেসব এলাকায় বিশেষ নজরদারি ও কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস, আহমেদ জমসেদ হাসান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র চৌধুরী বক্তব্য দেন। এছাড়া নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ রহমান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিএ/এএ


