সারাদিনের কাজ শেষে শরীর যখন চরম ক্লান্ত থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই ঘুমিয়ে পড়ার কথা। কিন্তু অনেকেই বিছানায় যাওয়ার পরও ঘুমাতে পারেন না। বরং মাথায় নানা চিন্তা ঘুরতে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে ‘ওয়্যারড–টায়ার্ড’ চক্র বলা হয়, যেখানে শরীর ক্লান্ত থাকলেও মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ কর্টিসল হরমোনের অস্বাভাবিক মাত্রা। সাধারণত দিনে কর্টিসল সক্রিয়তা বাড়ায় এবং রাতে মেলাটোনিন ঘুমে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে রাতে কর্টিসল বেশি থাকলে মস্তিষ্ক সতর্ক অবস্থায় থাকে, ফলে ঘুম ব্যাহত হয়।
ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহারও এই সমস্যার একটি বড় কারণ। মুঠোফোন বা ল্যাপটপ থেকে নির্গত নীল আলো মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করে এবং ঘুমের হরমোন নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে শরীর ক্লান্ত হলেও ঘুম আসতে চায় না।
এছাড়া বিছানায় যাওয়ার পর দিনের জমে থাকা চিন্তা মাথায় আসা একটি স্বাভাবিক প্রবণতা। এতে মস্তিষ্ক সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ঘুমের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বিশেষজ্ঞরা কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। ঘুমানোর আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার কমানো, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম অনুশীলন করলে উপকার পাওয়া যায়। পাশাপাশি বিকেলের পর ক্যাফেইন এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুম মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। তাই এই সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি।
সিএ/এমআর


