চাঁদের পথে মানুষের প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক মিশন আর্টেমিস ২-এ অংশ নেওয়া চার নভোচারীর সামনে শুধু বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জই নয়, রয়েছে দৈনন্দিন জীবনেরও বাস্তবতা—খাবার। দীর্ঘ প্রায় ১০ দিনের এই যাত্রায় নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেনকে এমন খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, যা মহাকাশের বিশেষ পরিবেশে নিরাপদ ও সহজে গ্রহণযোগ্য।
ওরিয়ন স্পেসক্রাফটে নেই কোনো প্রচলিত রান্নাঘর বা ফ্রিজ। তাই মহাকাশযাত্রার উপযোগী খাবার তৈরি করেছে নাসা, যা দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য এবং দ্রুত প্রস্তুত করা যায়। নভোচারীদের ব্যক্তিগত পছন্দ, পুষ্টিগুণ, ক্যালরি ও পানির ভারসাম্য বিবেচনায় রেখে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে এই মেনু।
মহাকাশে মাইক্রোগ্র্যাভিটির কারণে খাবারের ছোট কণা ভেসে গিয়ে যন্ত্রপাতির ক্ষতি করতে পারে। তাই বেছে নেওয়া হয়েছে এমন খাবার, যা খাওয়ার সময় কোনো গুঁড়ো বা উচ্ছিষ্ট তৈরি করে না। স্পেসক্রাফটে থাকা পানির ডিসপেন্সার ব্যবহার করে শুকনো খাবারে পানি মিশিয়ে খাওয়ার উপযোগী করা হয়। এছাড়া খাবার গরম করার জন্য রয়েছে বিশেষ ধরনের ছোট ওভেন।
এই মিশনে নভোচারীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে মোট ১৮৯ ধরনের খাবার ও পানীয়। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পানীয়, কফি, ফলের রস, টরটিলা, কুসকুস, গরুর বারবিকিউ, সবজি, সালাদসহ নানা পদ। পাউরুটির পরিবর্তে টরটিলা ব্যবহার করা হচ্ছে, কারণ এটি ভাঙলে গুঁড়ো হয় না। মিষ্টান্ন হিসেবে থাকছে পুডিং, কেক, চকলেট ও কুকিজ।
তবে মহাকাশযাত্রার সব সময় খাবার প্রস্তুত করা সম্ভব নয়। উৎক্ষেপণ বা অবতরণের সময় ঝাঁকুনির কারণে কিছু নির্দিষ্ট প্যাকেটজাত খাবারই খেতে হয়। এই অভিজ্ঞতাকে অনেকেই ক্যাম্পিংয়ের সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে সহজ উপায়ে প্রস্তুত খাবারই ভরসা।
সূত্র: স্পেস ডটকম
সিএ/এমআর


