জাতীয় সংসদে নিজেরসহ দুই নারী সহকর্মীকে নিয়ে ‘কুৎসিত ভাষা’ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সংসদ সদস্য আমির হামজার বিচার দাবি করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি এ দাবি জানান।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি আপনার দৃষ্টিতে আরেকটি খবর আনতে চাই। আজকে ডেইলি স্টারে খবর প্রকাশিত হয়েছে– এ সংসদে উপস্থিত আমি এবং আমার আরও দুজন নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে আরেকজন সদস্য যে কদাকার, কুৎসিত ভাষায় ওয়াজ মাহফিল করেছে, যে কুৎসিত ভাষায় বক্তব্য দিয়েছে, আমি আপনার কাছে এ ব্যাপারে বিচার চাইছি। সংসদে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনি বিষয়টিকে দেখবেন।’
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পয়েন্ট অব অর্ডার তোলা যায় না। তিনি বিষয়টি উত্থাপনের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, কোনো সদস্য অপদস্থ হলে স্পিকারের মাধ্যমে নোটিশ দিতে পারেন। এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তিনি আশ্বাস দেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিষয়টি উত্থাপন করা হলে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।
এ বিষয়ে স্পিকারও বলেন, কোনো মানহানিকর বা অরুচিকর বক্তব্য দেওয়া হলে তা নোটিশের মাধ্যমে জানাতে হবে। সংসদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে একই বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর এমপি সাঈদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা তাকে ‘জঙ্গি এমপি’ বলে সম্বোধন করার ঘটনায় প্রতিকার দাবি করেন। তিনি পয়েন্ট অব অর্ডারে বলেন, স্পিকারের স্ত্রীর জানাজায় অংশ নিতে সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় পেছন থেকে কেউ তাকে এভাবে সম্বোধন করেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ প্রসঙ্গে হানজালা বলেন, তাকে জঙ্গি বলার কারণ হিসেবে তার মাথায় পাগড়ি ও সাদা পাঞ্জাবি পরিধানকে উল্লেখ করা হচ্ছে, যা সুন্নতে রাসুল (সা.) অনুসরণের অংশ। তিনি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য তার সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
পরে স্পিকার তাকে বিশেষ অধিকার প্রশ্নে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।
সিএ/এএ


