ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ মোটরসাইকেলচালক ও মালিকেরা পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এতে মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বুধবার ( ১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ভুল্লী এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে এবং রাতে শহরের আরেকটি ফিলিং স্টেশনের সামনে এই অবরোধের ঘটনা ঘটে। একই রাতে রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনের কাছে পটকা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল নয়টা থেকে ভুল্লী এলাকার তিয়াস তিমু ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তেল নেওয়ার আশায় ভোর থেকেই শত শত মোটরসাইকেলচালক সেখানে অপেক্ষা করতে থাকেন। তবে ডিপো থেকে তেল পৌঁছাতে বিকেল পাঁচটা বেজে যায়। তেল পৌঁছানোর পরও ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ছয়টার পর তেল বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে মোটরসাইকেলচালক ও মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ চালকেরা পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকে পড়ে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
তিয়াস তিমু ফিলিং স্টেশনের মালিক রওশনুল হক বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তেল বিক্রির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুসরণ করেই তাঁরা তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছিলেন।
ভুল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু মোটরসাইকেলচালকেরা তা মেনে নিতে না পেরে মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়।
এদিকে একই রাতে ঠাকুরগাঁও শহরের চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ মোটরসাইকেলচালকেরা আবারও মহাসড়ক অবরোধ করেন। তাঁরা মহাসড়কে বাঁশ ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় মোটর শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক বেলাল হোসেন বলেন, ডিসপেন্সিং মেশিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সাময়িকভাবে জ্বালানি তেল বিতরণ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পরে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ওই সময় কিছু মোটরসাইকেলচালক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।
অন্যদিকে রানীশংকৈলের নেকমরদ হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনের কাছে রাতের দিকে ককটেলসদৃশ বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কেউ আহত না হলেও ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মুসলিম উদ্দিন বলেন, ‘গতকাল আমরা ২ হাজার লিটার পেট্রল পাই। লরি আসার পর তা আনলোড করে রাতে তেল বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন মোটরসাইকেলের একটি বহর পাম্পের ভেতর ঢুকে পড়ে। তাদের সরে যেতে বললে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ফিলিং স্টেশনের পেছনে একটি বিকট শব্দ হয়। তখন লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করেন। পরে পুলিশ এসে সেখানে অবস্থান নেয়।’
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। গতকাল জ্বালানি তেলের জেরে দুটি ফিলিং স্টেশনের সামনের মহাসড়কে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধরা। পরে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়। আর রানীশংকৈলের নেকমরদ এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে পটকা বিস্ফোরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনার পেছনে কারও উসকানি আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
সিএ/এমই


