ভ্রমণের সময় কোনো কায়িক পরিশ্রম না করেও অনেকেই ক্লান্তি অনুভব করেন। দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর শরীর ভারী লাগা, চোখে ঝিমুনি বা মানসিক অবসন্নতা তৈরি হওয়া—এসব অভিজ্ঞতা প্রায় সবারই পরিচিত। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ক্লান্তির পেছনে কাজ করে শরীর ও মস্তিষ্কের জটিল কিছু প্রক্রিয়া।
চলমান যানবাহনের ভেতরে বসে থাকলেও শরীর সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকে না। গাড়ির প্রতিটি বাঁক, ব্রেক বা কম্পনের সঙ্গে শরীরের ভেতরের পেশিগুলো অজান্তেই সামঞ্জস্য বজায় রাখতে কাজ করে। এই ক্ষুদ্র সমন্বয় প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘মাইক্রো-মাসকুলার অ্যাডজাস্টমেন্ট’। দীর্ঘ সময় ধরে এই অদৃশ্য কাজ শরীরে ক্লান্তি তৈরি করে।
একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় স্থির হয়ে বসে থাকার কারণে রক্ত সঞ্চালনও কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে। এতে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমে গিয়ে ভারী ভাব তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কেও। যাত্রাপথে মস্তিষ্ককে একসঙ্গে বিভিন্ন সংবেদন প্রক্রিয়াজাত করতে হয়, যেমন দৃশ্য, শব্দ ও শরীরের ভারসাম্য সংক্রান্ত সংকেত। কিন্তু এই কাজের কোনো দৃশ্যমান ফল না থাকায় মানসিক ক্লান্তি দ্রুত বাড়ে।
এ ছাড়া একঘেয়েমির কারণে অনেক সময় মস্তিষ্ক ‘হাইওয়ে হিপনোসিস’ অবস্থায় চলে যায়, যেখানে সচেতনতা কমে গিয়ে মানুষ ঝিমিয়ে পড়ে। আবার চোখ ও মস্তিষ্কের সংকেতের মধ্যে অমিল তৈরি হলে ‘সোপাইট সিনড্রোম’ দেখা দিতে পারে, যা মানুষকে নিস্তেজ ও ঘুমকাতুরে করে তোলে।
যানবাহনের ভেতরের পরিবেশও এই ক্লান্তিকে বাড়িয়ে দেয়। বন্ধ কেবিনে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে গেলে মনোযোগ কমে যায় এবং দ্রুত ক্লান্তি আসে।
তবে কিছু সহজ উপায়ে এই ক্লান্তি কমানো সম্ভব। ভ্রমণের সময় মাঝেমধ্যে নড়াচড়া করা, পর্যাপ্ত পানি পান, তাজা বাতাস গ্রহণ এবং মানসিকভাবে সক্রিয় থাকা এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
সিএ/এমআর


