বসন্তকালে দীর্ঘস্থায়ী কাশির সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ চিকিৎসা বা ঘরোয়া উপায়েও কাশি কমছে না, বরং ১৫ থেকে ২০ দিন বা তারও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য এটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাল সংক্রমণের পরও কাশি দীর্ঘদিন থাকতে পারে। ফ্লু বা সর্দি সেরে গেলেও শ্বাসনালীর সংবেদনশীলতা বেড়ে যাওয়ায় ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত কাশি চলতে পারে।
এছাড়া বায়ুদূষণ ও ধুলাবালির প্রভাবও বড় কারণ। শুষ্ক মৌসুমে বাতাসে ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম ধূলিকণার মাত্রা বেড়ে যায়, যা অ্যালার্জি বা সাইনাস সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য কাশি দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।
কফ ভেরিয়েন্ট অ্যাজমা নামের একটি অবস্থায় কাশি প্রধান উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়। অনেক সময় ঠান্ডা বাতাস বা ধুলাবালিতে এ কাশি বেড়ে যায়। অন্যদিকে পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড গলায় উঠে এলে তা থেকেও কাশি হতে পারে, যা অনেকেই সাধারণ ঠান্ডা হিসেবে ভুল করেন।
উচ্চ রক্তচাপের কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও দীর্ঘস্থায়ী শুকনো কাশি দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে।
এ ধরনের কাশি কমাতে ঘরোয়া কিছু উপায় কার্যকর হতে পারে। গরম পানি পান, আদা-মধু মিশ্রিত পানীয় বা ভাপ নেওয়া শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। লবণ-পানির গার্গল গলার অস্বস্তি কমায়। বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কাশি থাকলে তা নিউমোনিয়া বা হৃদরোগের লক্ষণ হতে পারে। কাশির সঙ্গে জ্বর, বুকে ব্যথা, রক্ত, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ওজন কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
দীর্ঘস্থায়ী কাশি শুধু মৌসুমি সমস্যা নয়, এটি পরিবেশ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের একটি সতর্ক সংকেতও হতে পারে। তাই সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াই নিরাপদ।
সিএ/এমআর


