মানুষের জীবনে এমন মুহূর্ত আসতে পারে, যখন নিজেকে নিজের শরীরের ভেতরে নয়, বরং বাইরে থেকে দেখছেন বলে মনে হয়। কিংবা চারপাশের পৃথিবীটাকে অবাস্তব মনে হয়। মনোবিজ্ঞানে এই অভিজ্ঞতাকে বলা হয় ডিসোসিয়েশন, যেখানে ব্যক্তি নিজের অনুভূতি, স্মৃতি বা পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্নতা অনুভব করেন।
এই অভিজ্ঞতা কখনো সাময়িক এবং স্বাভাবিক হতে পারে, আবার কখনো এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে মানসিক সমস্যার অংশ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে তীব্র মানসিক চাপ বা ট্রমার সময় মন নিজেকে রক্ষা করার উপায় হিসেবে এমন প্রতিক্রিয়া দেখায়।
ডিসোসিয়েশনের সময় ব্যক্তি মনে করতে পারেন যে তার শরীর তার নিজের নয়, অথবা তিনি যেন দূর থেকে নিজের জীবন দেখছেন। কখনো চারপাশের জগৎ কৃত্রিম বা স্বপ্নের মতো মনে হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা একরকম নয়।
দৈনন্দিন জীবনেও এর হালকা রূপ দেখা যায়। যেমন কোনো কাজে এতটাই ডুবে থাকা যে আশপাশের কিছুই মনে না থাকা, অথবা পরিচিত পথে চলার স্মৃতি না থাকা—এসবও সাধারণ ডিসোসিয়েশনের উদাহরণ।
বিশেষজ্ঞরা ডিসোসিয়েশনকে কয়েকটি ভাগে ব্যাখ্যা করেন, যেমন স্মৃতিভ্রংশ, হঠাৎ স্থান পরিবর্তন, বাস্তবতাবোধের পরিবর্তন বা পরিচয়ের বিভ্রান্তি। কখনো মানুষ নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভুলে যেতে পারেন বা নতুন পরিচয় ধারণ করতে পারেন।
এছাড়া ট্রিগার ও ফ্ল্যাশব্যাকের মতো অভিজ্ঞতাও এর সঙ্গে যুক্ত। কোনো নির্দিষ্ট শব্দ, গন্ধ বা দৃশ্য অতীতের ট্রমার স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারে, যা বর্তমানেই ঘটছে বলে মনে হয়।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে মনোচিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি, ডায়ালেকটিক্যাল বিহেভিয়ার থেরাপি কিংবা অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধও ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সহায়তা পেলে অনেকেই এই অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সক্ষম হন।
সিএ/এমআর


