দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি সাতজনের একজন কিডনির রোগে আক্রান্ত। এক দশক আগে এই হার ছিল প্রতি ৯ জনে একজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির কারণে কিডনি রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি বায়ুদূষণ, তাপজনিত চাপ (হিট স্ট্রেস), পানিশূন্যতা এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবের মতো পরিবেশগত কারণও এ রোগ বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করা গেলে প্রায় ৪০ শতাংশ কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় করা সম্ভব। এ কারণে দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে কিডনি রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ‘বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। এবারের কিডনি দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সুস্থ কিডনি সকলের তরে মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণীরে’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। তিনি বলেন, কিডনির রোগ বহুলাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি এবং সচেতনতার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
অধ্যাপক এ কে আজাদ বলেন, ‘মসজিদের ইমামকে দিয়ে খুতবায় সচেতনতা বার্তাগুলো ছড়িয়ে দেওয়া যায়। এটি নিয়ে আমরা একটি গবেষণা করেছি। পাঁচ বছর ধরে গবেষণাটি চলে। সেখানে দেখা গেছে এর মাধ্যমে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতা ৪৫ শতাংশ কমিয়ে ফেলা যায়।’
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে কিডনি রোগের স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান।
রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘মেয়েরা সবচেয়ে বেশি সুবিধাবঞ্চিত থাকে। দেখা যায় বেশির ভাগ ডায়ালাইসিস রোগী নারী। তারা এমন অবস্থায় আসে, যখন ডায়ালাইসিস ছাড়া আর উপায় থাকে না। কারণ, কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসাটা (প্রাথমিক অবস্থায়) পায় না। আর পরিবার তো তাদের আনে না।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক হারুন আর রশিদ। তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে প্রায় সাত কোটির বেশি মানুষ রয়েছে। এই পর্যায়ে চিকিৎসা ও সচেতনতা বাড়ানো গেলে প্রায় ৪০ শতাংশ রোগ নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় করা সম্ভব। বর্তমানে মোট জনসংখ্যার প্রায় এক শতাংশ পঞ্চম স্তরের কিডনি রোগে আক্রান্ত।
তিনি আরও বলেন, এই রোগীদের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। উন্নত দেশগুলোতে এসব রোগীর জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। সরকারের ই–হেলথ উদ্যোগের পাশাপাশি ডায়ালাইসিস রোগীদের জন্য বিনা মূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন কিডনি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন রুবেল এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিনী ফেরদৌস রশীদ। সভার শেষে অধ্যাপক ডা. মুহিবুর রহমান উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
আলোচনা সভার আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিডনি ফাউন্ডেশন থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি মিরপুর-১ এলাকার সনি সিনেমা হল এলাকা ঘুরে হার্ট ফাউন্ডেশন হয়ে আবার কিডনি ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
সিএ/এমই


