হৃদ্রোগ বা রক্তসঞ্চালন–সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগা অনেক মানুষের মনে রোজা রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে। ওষুধের সময়, খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন কাজকর্ম কীভাবে সামলাবেন—এই প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খায়। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও সতর্কতা মেনে চললে অনেক হৃদ্রোগীই সুবেহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন।
তবে যাঁদের সাম্প্রতিক সময়ে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়েছে, হার্টে স্টেন্ট বসানো বা বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে, কিংবা গুরুতর হার্ট ফেইলিউর রয়েছে—তাঁদের ক্ষেত্রে রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে রমজানের আগে কয়েক দিন পরীক্ষামূলকভাবে অল্প সময় রোজা রেখে শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
রোজায় সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস। সাহ্রিতে এমন খাবার বেছে নেওয়া প্রয়োজন, যা ধীরে শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। লাল চালের ভাত, আটা বা লাল আটার রুটি, শাকসবজি, ফল এবং ডাল, ডিম বা কম চর্বিযুক্ত মাছ এ ক্ষেত্রে উপকারী।
ইফতারে খেজুর ও পানি দিয়ে রোজা ভাঙা স্বাস্থ্যসম্মত। মূল খাবারে শাকসবজি, ফল এবং লো-ফ্যাট প্রোটিন রাখা ভালো। ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললে হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ কম পড়ে।
পানিশূন্যতা এড়াতে ইফতার ও সাহ্রির মাঝখানে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। চা, কফি কিংবা চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে সাধারণ পানি বেশি উপকারী। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার কম খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
রোজার সময় নিয়মিত ওষুধের সময় পরিবর্তন করতে হলে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে হার্ট ফেইলিউর, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের ক্ষেত্রে সময় এদিক-সেদিক হলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
পা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হালকা হাঁটা ও স্ট্রেচিং হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী হলেও ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলা উচিত।
সিএ/এমআর


