স্মার্টফোন ছাড়া জীবন কল্পনা করা কঠিন হয়ে উঠেছে বর্তমান সময়ে। শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সী মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বড় অংশজুড়ে আছে স্মার্টফোন। সন্তানকে ব্যস্ত রাখতে বাবা-মায়ের হাতেও প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে এই ডিভাইস। তবে দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে শারীরিক ও মানসিক নানা ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রেক্ষাপটে স্মার্টফোনের বিকল্প ডিভাইস আনতে যাচ্ছে অ্যাপল।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্ট ওয়্যারেবল প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত হিসেবে অ্যাপল ইনকর্পোরেশনের সম্ভাব্য স্মার্ট গ্লাস নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। এই ডিভাইস সফল হলে ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোন নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে, এমনকি ভবিষ্যতে আইফোন ব্যবহারের ধরনেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
গুঞ্জন অনুযায়ী, এআই-চালিত স্মার্ট গ্লাস ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন সহকারী হিসেবে কাজ করবে। এতে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও স্পিকার যুক্ত থাকতে পারে, যা আশপাশের পরিবেশ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে। ফলে কণ্ঠের নির্দেশেই নানা তথ্য জানা সম্ভব হতে পারে, আলাদা করে স্মার্টফোন ব্যবহার ছাড়াই।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হলে এই গ্লাস খাবারের প্লেট দেখে উপাদান শনাক্ত করা, কোনো স্থানের নাম জানানো কিংবা ইভেন্ট পোস্টার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ক্যালেন্ডারে যোগ করার মতো কাজ সহজ করবে। এসব সুবিধা ধীরে ধীরে স্মার্টফোনের বিকল্প হিসেবে গ্লাস ব্যবহারের পথ তৈরি করতে পারে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ডিভাইসটিতে ক্ষুদ্র ওলেড ডিসপ্লে ব্যবহার করা হতে পারে, যেখানে বাস্তব দৃশ্যের ওপর ডিজিটাল তথ্য ভেসে উঠবে। এতে আলাদা স্ক্রিনে তাকানোর প্রয়োজন নাও থাকতে পারে। শুরুতে স্মার্ট গ্লাস ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কাজ করলেও ভবিষ্যতে এটি স্বতন্ত্র ও ক্লাউডভিত্তিক ডিভাইস হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
নেভিগেশন, খাবারের তথ্য জানা কিংবা দৈনন্দিন কাজে সহায়তার মতো ব্যবহারিক দিক নিয়ে আলোচনা চললেও সামাজিকভাবে এই ডিভাইস কতটা দ্রুত গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সফল হলে স্মার্ট গ্লাস ওয়্যারেবল প্রযুক্তিতে নতুন যুগের সূচনা করতে পারে এবং স্মার্টফোনের ভূমিকা আমূল বদলে দিতে পারে।
সিএ/এমআর


