অ্যান্টার্কটিকার একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের ক্ষুদ্র স্ফটিক বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের ভাষ্য, পৃথিবীর দক্ষিণতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট এরেবাস এ ক্ষেত্রে অন্য সব আগ্নেয়গিরির তুলনায় ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাউন্ট এরেবাস থেকে প্রতিদিন বিশুদ্ধ সোনার অতি সূক্ষ্ম স্ফটিক নির্গত হয়। ১৯৯১ সালে জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, আগ্নেয়গিরিটি প্রতিদিন প্রায় ৮০ গ্রাম আণুবীক্ষণিক সোনার স্ফটিক বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে দেয়।
বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের হিসাবে প্রতিদিন নির্গত এই স্বর্ণের মূল্য প্রায় ৬ হাজার মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে বছরে এর আর্থিক মূল্য ২০ লাখ ডলারেরও বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৪ কোটির বেশি টাকার সমান।
দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার দূরে রস সাগরের রস দ্বীপে অবস্থিত মাউন্ট এরেবাস। আগ্নেয়গিরিটি থেকে অবিরাম গরম গ্যাস নির্গত হয় এবং বিজ্ঞানীদের মতে, সেই গ্যাসের সঙ্গেই সূক্ষ্ম স্বর্ণকণা উপরের বায়ুমণ্ডলে উঠে আসে। এসব কণা বরফে জমা হওয়ার আগে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বাতাসে ভেসে যেতে পারে।
ইলেকট্রন অণুবীক্ষণযন্ত্রে পরীক্ষা করে গবেষকেরা দেখেছেন, এগুলো সাধারণ ধুলিকণা নয়। বরং প্রতিটি কণা সুগঠিত স্ফটিকের আকার ধারণ করে। কিছু স্ফটিকের ব্যাস ৬০ মাইক্রোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, আগ্নেয়গিরির গ্যাসে স্বর্ণের উপস্থিতি একেবারে বিরল নয়। হাওয়াইয়ের কিলাউয়া, ইতালির মাউন্ট এটনা, আলাস্কার অগাস্টিন এবং মেক্সিকোর এল চিচন আগ্নেয়গিরিতেও অল্প পরিমাণে স্বর্ণের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে মাউন্ট এরেবাসের মতো মাত্রায় অন্য কোথাও এ ঘটনা দেখা যায়নি।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ক্লোরিন বা সালফারসমৃদ্ধ যৌগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গরম আগ্নেয় গ্যাসের মাধ্যমে স্বর্ণ উপরে উঠে আসে। পরে গ্যাসের তাপমাত্রা কমে গেলে স্বর্ণ পৃথক হয়ে ক্ষুদ্র স্ফটিকে রূপ নেয়।
এ ঘটনার কারণ নিয়ে এখনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি গবেষকেরা। তাদের একটি ধারণা, ক্লোরিনসমৃদ্ধ গ্যাস ঠান্ডা হওয়ার সময় সরাসরি সোনার স্ফটিক তৈরি হয়। তবে গ্যাসে স্বর্ণের পরিমাণ খুব কম থাকায় এ প্রক্রিয়া সহজ নয়।
আরেকটি তত্ত্বে বলা হয়েছে, সোনার স্ফটিক প্রথমে আগ্নেয়গিরির লাভার হ্রদের উপরিভাগে তৈরি হয়। পরে আগ্নেয় গ্যাসের সঙ্গে সেগুলো বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে।
এই আবিষ্কারের তিন দশকের বেশি সময় পার হলেও মাউন্ট এরেবাসের এই অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও অজানা। ফলে বিষয়টি বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে।
সিএ/এমআর


