উচ্চ কোলেস্টেরল বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা ধমনীর ভেতরে জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং করোনারি আর্টারি ডিজিজের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সমস্যা গুরুতর হওয়ার আগেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকেই মনে করেন, কোলেস্টেরল কমাতে হলে সব ধরনের চর্বিযুক্ত খাবার বাদ দিতে হবে বা কঠোর ডায়েট অনুসরণ করতে হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল বিষয় হলো সঠিক খাবার নির্বাচন এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা। স্বাস্থ্যকর খাবার ক্ষতিকর এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল কমাতে এবং শরীরের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে কোলেস্টেরলের মাত্রার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এএইচএ (AHA) জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঁশসমৃদ্ধ ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত রাখলে এলডিএল (LDL) ও এইচডিএল (HDL) কোলেস্টেরলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
দ্রবণীয় আঁশযুক্ত খাবার রাখুন খাদ্যতালিকায়
দ্রবণীয় আঁশ পরিপাকতন্ত্রে কোলেস্টেরলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তা রক্তে প্রবেশের আগেই শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে পারে। ওটস, বার্লি, শিম, মসুর ডাল, আপেল এবং বেরিজাতীয় ফল দ্রবণীয় আঁশের ভালো উৎস।
মৌসুমি ফল ও শাকসবজি বেশি খান
ফল ও শাকসবজিতে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আঁশ, যা হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব খাবারে প্রাকৃতিকভাবে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ক্যালোরির পরিমাণও কম থাকে। আপেল, বেরিজাতীয় ফল, শাকসবজি, ব্রকলি, গাজরসহ বিভিন্ন রঙিন সবজি নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্যকর চর্বি বেছে নিন
সব ধরনের চর্বি শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিবর্তে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ করলে কোলেস্টেরলের মাত্রা উন্নত হতে পারে। সরিষার তেল, চিনাবাদামের তেল, অ্যাভোকাডো, বাদাম ও বিভিন্ন বীজজাতীয় খাবার স্বাস্থ্যকর চর্বির ভালো উৎস। পাশাপাশি তৈলাক্ত মাছও খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী। অতিরিক্ত মাখন বা ঘি ব্যবহারের পরিবর্তে পরিমিত পরিমাণে উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন
কেক, বিস্কুট, বেকারি পণ্য, প্রক্রিয়াজাত মাংস, ভাজাপোড়া খাবার এবং ফাস্টফুডে সাধারণত অস্বাস্থ্যকর চর্বি, অতিরিক্ত চিনি ও লবণ থাকে। এসব খাবার নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরল বাড়ার পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই যতটা সম্ভব ঘরে তৈরি তাজা ও প্রাকৃতিক উপাদানে রান্না করা খাবার বেছে নেওয়া উচিত।
সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসে গুরুত্ব দিন
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবার একাই কোলেস্টেরল কমাতে পারে না। বরং প্রতিদিন সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিয়মিত শস্যদানা, ডাল, ফল, শাকসবজি, স্বাস্থ্যকর চর্বি, বাদাম, বীজ এবং চর্বিহীন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে দীর্ঘমেয়াদে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
সূত্র: এইচএন
সিএ/এমআর


