কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে—এআই কি মানুষের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে? বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর এ উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুললেও সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, বাস্তব চিত্র এতটা একমুখী নয়।
নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান পরিকল্পিতভাবে এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে, তাদের অনেকেরই কর্মীসংখ্যা কমার পরিবর্তে বেড়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং বিভিন্ন বিভাগে নিয়োগও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
র্যাম্প ও রেভেলিও ল্যাবসের যৌথ গবেষণায় প্রায় ২২ হাজার প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করেছে, তাদের কর্মীসংখ্যা গড়ে ১০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। শুধু প্রযুক্তি বিভাগেই নয়, বিক্রয়, প্রশাসন, গ্রাহকসেবা, অর্থ এবং বিপণন বিভাগেও নতুন কর্মী নিয়োগের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ফলাফল থেকে সরাসরি বলা যায় না যে এআই সবক্ষেত্রেই নতুন চাকরি সৃষ্টি করছে। কারণ দ্রুত সম্প্রসারণশীল প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত নতুন প্রযুক্তি গ্রহণেও এগিয়ে থাকে। ফলে কর্মী বৃদ্ধি এআই ব্যবহারের কারণে হয়েছে, নাকি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির ফল—তা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
এর আগে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছিল যে, এআইয়ের প্রভাবে বিশেষ করে নতুন চাকরিপ্রার্থীরা বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। গোল্ডম্যান স্যাকসের এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, গত এক বছরে এআইয়ের প্রভাবে প্রতি মাসে প্রায় ১৬ হাজার চাকরি কমেছে। এতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে তরুণ এবং কর্মজীবনে নতুন প্রবেশকারীদের ওপর।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় ভিন্ন চিত্রও উঠে এসেছে। প্রযুক্তিতে অগ্রগামী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন কর্মী নিয়োগ বেড়েছে এবং প্রবেশ পর্যায়ের চাকরিও প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এআই ব্যবহারের সঙ্গে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির সম্পর্কও স্পষ্ট হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই শুধু মানুষের কাজের বিকল্প নয়; অনেক ক্ষেত্রে এটি উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করছে। সফটওয়্যার উন্নয়ন, ত্রুটি শনাক্তকরণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনের মতো কাজে এআই ব্যবহারের ফলে খরচ কমছে এবং কাজের গতি বাড়ছে।
তবে যারা শুধু পরীক্ষামূলকভাবে এআইয়ের সাবস্ক্রিপশন ব্যবহার করছে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ করছে না, তাদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুফল দেখা যাচ্ছে না।
গবেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে এআই ব্যবহারে দক্ষ এবং অনগ্রসর প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা, পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পারা প্রতিষ্ঠানগুলোই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে।
সব মিলিয়ে, এআইয়ের ভবিষ্যৎ শুধু চাকরি হারানোর গল্প নয়; বরং সঠিকভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে এটি নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও পথ খুলে দিতে পারে।
সিএ/এমআর


