দিনের প্রথম খাবার হিসেবে সকালের নাস্তার গুরুত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে যে, ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টার মধ্যেই খাবার না খেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের নির্দিষ্ট সময়সীমার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের নাস্তার সময় নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, বিপাকক্রিয়া এবং দৈনন্দিন অভ্যাসের ওপর। কেউ ঘুম থেকে উঠেই ক্ষুধা অনুভব করেন, আবার কেউ কিছুটা সময় পার হওয়ার পর খাবার খেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
ঘুমের সময় শরীর বিশ্রামে থাকলেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কাজ চলতে থাকে। শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং কোষ মেরামতের মতো প্রক্রিয়ায় শরীর সঞ্চিত শক্তি ব্যবহার করে। কারণ এই সময় কোনো খাবার গ্রহণ করা হয় না।
ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকের রক্তে শর্করার মাত্রা আগের তুলনায় কিছুটা কমে যেতে পারে। এর ফলে ক্ষুধা, দুর্বলতা বা ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। আবার অনেকেই কোনো ধরনের অস্বস্তি ছাড়াই বেশ কিছু সময় না খেয়ে স্বাভাবিকভাবে দিন শুরু করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালের নাস্তা শরীরকে নতুন শক্তি জোগানোর পাশাপাশি মস্তিষ্ক ও পেশির কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। মনোযোগ ধরে রাখা এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এর ভূমিকা রয়েছে। তবে কখন খাবার খাওয়া হবে, সেটি সবার ক্ষেত্রে একই রকম হওয়ার প্রয়োজন নেই।
একটি বৃহৎ সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, বয়স, বিপাকক্রিয়া এবং বিদ্যমান স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে সকালের নাস্তার সময় ও এর প্রভাব ব্যক্তি ভেদে পরিবর্তিত হয়। ফলে ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টার মধ্যে সবাইকে খাবার খেতে হবে—এমন কোনো সর্বজনীন বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, নাস্তা কখন খাওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কী ধরনের খাবার খাওয়া হচ্ছে। পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণই শরীরের জন্য বেশি উপকারী। তাই শুধু নির্দিষ্ট সময় মেনে খাওয়ার পরিবর্তে নিজের শরীরের চাহিদা ও ক্ষুধার সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়াই ভালো।
সিএ/এমআর


