মানবকেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং টেকসই উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক এআই উদ্ভাবন ও নেতৃত্ব কনসোর্টিয়াম (আইএআইএলসি) প্রেস্টিজ অ্যাওয়ার্ড-২০২৬-এর জন্য ৫৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে। মনোনীতদের মধ্যে রয়েছে ৫৬টি প্রতিষ্ঠান এবং একজন ব্যক্তি।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ইউনিভার্সাল হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন (ইউএইচএফ) কানাডা গ্লোবাল কনসোর্টিয়ামের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ইউএইচএফ আইএআইএলসির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি প্রফেসর বি. সি. পান্ডে মনোনীত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৫ জুলাই ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণপত্র, আমন্ত্রণপত্র এবং ভিআইপি প্রতিনিধি আমন্ত্রণ পাঠানো হবে। অনুষ্ঠানে তারা পদক, ক্রেস্ট, আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি সনদ এবং আন্তর্জাতিক সিপিডি দ্বৈত সনদ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এ সম্মাননা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিবন্ধন বা প্রশাসনিক ফি প্রযোজ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বেজা), তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি (বেপজা), বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড এবং সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি মনোনয়ন পেয়েছে। এছাড়া গ্লোবাল চেঞ্জ মেকার বিভাগে একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির একজন ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি শিক্ষককে মনোনীত করা হয়েছে।
ব্যবসায়িক ও বাণিজ্য সংগঠনের বিভাগে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), এফবিসিসিআই, এমসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্টাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাকো), বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি (ইউএনইউ), ইউনিভার্সিটি অব ফ্রাঙ্কো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ), আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এআইইউবি), স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি), বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), লন্ডন স্কুল অব লিডারশিপ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (যুক্তরাজ্য) এবং এক্রোডেসি এডুকেশন।
ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, বিকাশ, প্রাইম ব্যাংক এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি মনোনয়ন পেয়েছে।
করপোরেট ও প্রযুক্তি বিভাগে রয়েছে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রি, এইচআরসি গ্রুপ অব কোম্পানি, এসিআই লিমিটেড, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, বাংলালিংক, এশিয়া স্টার বাংলাদেশ অ্যান্ড থাইল্যান্ড, পেন্টাগন প্রিন্টস অ্যান্ড মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল, রবি এবং মিন্টু কুমার মন্ডল অ্যান্ড ল অ্যাসোসিয়েট।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও মানবিক সংস্থার মধ্যে ইউএনডিপি বাংলাদেশ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং ব্র্যাক বাংলাদেশ সম্মাননার জন্য মনোনীত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রফেসর বি. সি. পান্ডে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, চেম্বার অব কমার্স, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ের অবদানকে দীর্ঘ গবেষণা ও আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের মাধ্যমে যাচাই করে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়েছে। ঘোষিত ৫৭টি বিজয়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ক্ষেত্রে উদ্ভাবন নেতৃত্ব, গবেষণা এবং মানবকল্যাণে যে অসামান্য অবদান রেখেছেন, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সেই অবদানকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে। আমরা বিশ্বাস করি এই উদ্যোগ দায়িত্বশীল প্রযুক্তি, নৈতিক নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
তিনি আরও বলেন, আইএআইএলসি প্রেস্টিজ অ্যাওয়ার্ড শুধু একটি আন্তর্জাতিক সম্মাননা নয়; এটি নৈতিক নেতৃত্ব, মানবকেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করার একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। প্রযুক্তি অবশ্যই মানবতার কল্যাণে কাজ করবে— এটাই আমাদের মূল দর্শন। আইএআইএলসি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা, এআই ও সাইবার নিরাপত্তা উদ্যোগ, নেতৃত্ব উন্নয়ন, নীতিনির্ধারণ সংলাপ এবং বৈশ্বিক জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কাজ করবে।
আয়োজকদের দাবি, এটি কোনো বাণিজ্যিক বা স্পন্সরনির্ভর পুরস্কার নয়। মনোনয়ন, স্পন্সরশিপ, লবিং কিংবা বিজ্ঞাপনের ভিত্তিতে নয়, বরং গবেষণা, প্রমাণ, যোগ্যতা এবং বাস্তব অবদানের মূল্যায়নের মাধ্যমে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়েছে। মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় ইনস্টিটিউশনাল রিসার্চ, ডিউ ডিলিজেন্স, কমপ্লায়েন্স স্ক্রিনিং, গভর্ন্যান্স রিভিউ এবং স্বাধীন আন্তর্জাতিক মূল্যায়নসহ পাঁচটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সিএ/এমআর


