পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ চিয়া সিড অনেকের খাদ্যতালিকায় জনপ্রিয় হলেও এটি সবার জন্য উপযোগী নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অবস্থায় চিয়া সিড খেলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ঢাকার ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফ হোসেন খান এ বিষয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন।
চিয়া সিডে প্রচুর আঁশ থাকায় এটি হজমের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে পেটের অস্বস্তি, গ্যাস বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) বা ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (আইবিডি) সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
এ ছাড়া যাঁদের খাবার গিলতে সমস্যা হয়, তাঁদের জন্য শুকনা চিয়া সিড বিপজ্জনক হতে পারে। এটি খাদ্যনালিতে আটকে গিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। আবার যাঁদের পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত, যেমন গ্যাস্ট্রোপ্যারেসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা, তাঁদের ক্ষেত্রেও চিয়া সিড সহজে হজম নাও হতে পারে।
রক্তচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কম যাঁদের, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত চিয়া সিড গ্রহণ ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এটি রক্তচাপ আরও কমিয়ে দিতে পারে। একইভাবে অ্যালার্জি থাকলে চিয়া সিড সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা জরুরি, কারণ এতে ত্বকের সমস্যা থেকে শুরু করে শ্বাসকষ্ট পর্যন্ত হতে পারে।
চিয়া সিড কিছু ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। রক্ত তরল রাখার ওষুধ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। এতে রক্তক্ষরণ, হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা অতিরিক্ত রক্তচাপ হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, চিয়া সিড খাওয়ার আগে তা পানিতে বা দুধে ভিজিয়ে নিতে হবে এবং পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে। সাধারণভাবে এক দিনে এক থেকে দুই টেবিল চামচের বেশি না খাওয়াই ভালো।
সিএ/এমআর


