ইসলামে জাকাত একটি বাধ্যতামূলক আর্থিক ইবাদত হওয়ায় অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়, রাষ্ট্রকে কর প্রদান করা কি আবশ্যক, নাকি কর ফাঁকি দিলে ধর্মীয়ভাবে কোনো সমস্যা নেই। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এ ধারণা সঠিক নয় এবং কর ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি ধর্মীয় ও নৈতিক উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামি আইন ও নৈতিকতার আলোকে নাগরিক ও রাষ্ট্রের সম্পর্ককে একটি সামাজিক চুক্তি হিসেবে দেখা হয়। রাষ্ট্র নাগরিকদের নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও মৌলিক সেবা প্রদান করে, আর নাগরিকরা আইন মেনে চলা ও নির্ধারিত কর পরিশোধের মাধ্যমে সেই ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহণ করার অর্থ হলো প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার অঙ্গীকার করা। সে বিবেচনায় আইনসম্মত কর ফাঁকি দেওয়া নাগরিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার শামিল।
আলোচনায় বলা হয়েছে, জাকাত ও কর দুটি ভিন্ন বিষয়। জাকাত একটি নির্ধারিত ধর্মীয় বিধান, যার ব্যয়ের খাত ইসলামে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। অন্যদিকে কর হলো রাষ্ট্র পরিচালনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সংগৃহীত অর্থ।
ইসলামি গবেষকদের মতে, রাষ্ট্রের বৈধ প্রয়োজন পূরণে নাগরিকদের আর্থিক অংশগ্রহণের বিষয়টি ইসলামের বিভিন্ন উৎসেও গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে কর আদায়ের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জনগণের সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথাও বলা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, কর ফাঁকির মাধ্যমে ব্যক্তি হয়তো সাময়িকভাবে আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন, কিন্তু এর প্রভাব পড়ে সামষ্টিকভাবে পুরো সমাজের ওপর। কারণ জনগণের করের অর্থ দিয়েই রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, সেতু ও অন্যান্য সরকারি সেবা পরিচালিত হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা এও মনে করিয়ে দেন, কর আরোপের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের ওপর অতিরিক্ত বা অন্যায্য কর চাপিয়ে না দিয়ে ন্যায়ভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ করব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।
তাদের মতে, কর প্রদান যেমন নাগরিক দায়িত্ব, তেমনি করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।
সিএ/এমআর


