বার্ধক্যে অসুস্থতা ও অকাল মৃত্যুর জন্য শুধু বংশগত জিন দায়ী নয়, বরং ব্যক্তির জীবনযাপন, পরিবেশ ও দৈনন্দিন অভ্যাসই বড় ভূমিকা রাখে—এমন তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।
গবেষণাটি বলছে, মানুষের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর ওপর তার নিজের নিয়ন্ত্রণ ধারণার চেয়েও বেশি। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহারের মাধ্যমে বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে আয়োজিত ‘স্মার্ট এজিং সামিট’-এ উপস্থাপিত ‘লিভিং লঙ্গার, বেটার’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, বার্ধক্যে দেখা দেওয়া অসুস্থতার অন্তত ৮০ শতাংশই জীবনযাপন ও পরিবেশগত কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষকদের মতে, এই হিসাব আরও বেশি হতে পারে।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন চিকিৎসা, বার্ধক্য, শরীরতত্ত্ব ও শিক্ষানীতিবিষয়ক একদল ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞ। এতে যুক্তরাজ্যের বায়োব্যাংকে সংরক্ষিত প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষকদের একজন স্যার ক্রিস্টোফার বল বলেন, অনেকেই নিজেদের অসুস্থতার জন্য বংশগত কারণকে দায়ী করেন। তবে বাস্তবে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও জীবনযাপনের প্রভাব অনেক বেশি। তাঁর মতে, মানুষ নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়ে যতটা ভাবেন, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি দায়িত্ব বহন করেন।
গবেষণায় ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবনকে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
তবে গবেষণাটির সমালোচনাও রয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, স্বাস্থ্য কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। দারিদ্র্য, দূষণ, চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি, কর্মপরিবেশ এবং সরকারি নীতিমালার মতো বিষয়ও মানুষের স্বাস্থ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাদের মতে, স্বাস্থ্যঝুঁকির পেছনে থাকা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করলে বিষয়টি অতিরিক্ত সরলীকৃত হয়ে যায়। ফলে ব্যক্তিগত দায়িত্বের পাশাপাশি নীতিনির্ধারক ও রাষ্ট্রের ভূমিকাও সমানভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তা সত্ত্বেও গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সচেতন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মানুষ নিজের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
সিএ/এমআর


