গরমের সময়ে ঠান্ডা পানি সংরক্ষণের জন্য আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মাটির তৈরি ফিল্টার। একসময় যেভাবে মাটির কলসে পানি রাখা হতো, এখন তার আধুনিক রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মাটির ফিল্টার। বিদ্যুৎ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে পানি ঠান্ডা রাখার সক্ষমতার কারণে এর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে সাধারণ মানুষের।
মাটির ফিল্টার মূলত পানি বিশুদ্ধ করার যন্ত্র নয়। এটি ব্যবহার করা হয় পানি সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা রাখার জন্য। গঠনগতভাবে এটি সাধারণ ফিল্টারের মতো। নিচে একটি স্ট্যান্ড, মাঝখানে মাটির তৈরি সংরক্ষণ পাত্র এবং নিচের অংশে পানি সংগ্রহের জন্য একটি ট্যাপ থাকে। ওপরে থাকে ঢাকনা, যা ধুলাবালি থেকে পানিকে সুরক্ষিত রাখে।
মাটির ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে ধীরে ধীরে বাষ্পীভবন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এর ফলে ভেতরের পানি স্বাভাবিকভাবেই ঠান্ডা হয়ে যায়। বিশেষ করে বিদ্যুতের খরচ ছাড়াই ঠান্ডা পানি পাওয়ার কারণে অনেক পরিবার এই পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে।
বাজারে ৬, ৮ এবং ১০ লিটার ধারণক্ষমতার বিভিন্ন আকারের মাটির ফিল্টার পাওয়া যায়। পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রেতারা মডেল নির্বাচন করতে পারেন। সিলিন্ডার আকৃতির পাশাপাশি গোলাকার নকশার ফিল্টারও এখন জনপ্রিয়।
খাদ্য ও পুষ্টিবিদদের মতে, সব ধরনের প্লাস্টিকের পাত্র সবসময় নিরাপদ নাও হতে পারে। বিশেষ করে নিম্নমানের প্লাস্টিক পানির গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তুলনামূলকভাবে মানসম্মত মাটির পাত্র পানির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে সহায়ক।
বর্তমানে মাটির ফিল্টারে ঐতিহ্যবাহী নকশার পাশাপাশি আধুনিক ডিজাইনও দেখা যায়। ফুল-পাতার অলংকরণ, খাঁজকাটা কারুকাজ কিংবা মিনিমাল ডিজাইনের ফিল্টার বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। আকার ও নকশাভেদে এসব ফিল্টারের দাম সাধারণত ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন ফিল্টার ব্যবহারের আগে কয়েকবার পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া উচিত। প্রথম এক-দুই দিন পানি ভরে রেখে তা ফেলে দেওয়াও ভালো। নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করা এবং মাসে একবার রোদে শুকিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


