পাখিদের মধ্যে স্বমেহন বা হস্তমৈথুন কোনো অস্বাভাবিক আচরণ নয়, বরং এটি তাদের স্বাভাবিক যৌন আচরণেরই অংশ বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, খাঁচায় বন্দী পাখিদের তুলনায় মুক্ত বা বন্য পরিবেশে বসবাসকারী পাখিদের মধ্যেই এ আচরণ বেশি দেখা যায়।
গবেষণাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা, যেখানে মনে করা হতো পাখিদের স্বমেহন কেবল বন্দী অবস্থার মানসিক চাপের ফল। গবেষকেরা বলছেন, বাস্তবে এটি পাখিদের সুস্থ ও স্বাভাবিক আচরণের একটি অংশ।
গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিবর্তনবিষয়ক বাস্তুসংস্থানবিদ ড. ক্লো হেইস বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হল, হস্তমৈথুন বা স্বমেহন পাখিদের খাঁচায় বন্দী থাকার কারণে তৈরি হওয়া কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া নয়। পাখিদের মধ্যে এমনটা স্বাভাবিক ও সুস্থ আচরণ, যা এদের স্বাভাবিক যৌন আচরণেরই অংশ।”
গবেষণার জন্য পাখি বিশেষজ্ঞ, পাখিপ্রেমী, প্রজননকারী এবং অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কমিউনিটির সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রে প্রকাশিত তথ্যও বিশ্লেষণ করেন গবেষকেরা। সব মিলিয়ে খাঁচাবন্দী ও বন্য পরিবেশের ১২০টি প্রজাতির পাখির আচরণ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তোতা, হাঁস, টার্কি ও মুরগিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির মধ্যে এ আচরণ ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। পুরুষ ও স্ত্রী—উভয় ধরনের পাখির মধ্যেই এ প্রবণতা দেখা গেলেও পুরুষ পাখিদের আচরণ তুলনামূলক বেশি নথিভুক্ত হয়েছে।
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরুষ পাখিরা সাধারণত বসার ডাল, খেলনা, গাছের ছোট ডাল কিংবা কখনো কখনো মালিকের হাত, পা বা কাঁধের সঙ্গে শরীর ঘষে এ আচরণ করে। অন্যদিকে স্ত্রী পাখিরা লেজ উঁচিয়ে কোনো বস্তুর ওপর শরীরের পেছনের অংশ চেপে ধরে।
ড. ক্লো হেইস নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “আমার একটি পোষা তোতাপাখি ছিল, যা সারাক্ষণই স্বমেহন করত। আপনি যদি কখনও কোনো পাখিকে এ আচরণ করতে দেখেন তবে সে ঠিক কী করছে তা আপনি নিশ্চিতভাবেই বুঝতে পারবেন।”
গবেষকেরা বলছেন, অনেক পাখির মালিক এ আচরণ দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। তবে এ ধরনের আচরণ বন্ধ করতে খাঁচার ডাল সরিয়ে ফেলা, খেলনা সরিয়ে নেওয়া, হরমোন থেরাপি কিংবা অস্ত্রোপচারের মতো পদক্ষেপ পাখির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ড. হেইস বলেন, “খুব মারাত্মক ক্ষেত্রে, চিকিৎসকেরা পাখিদের এমন আচরণ বন্ধ করতে বিভিন্ন ওষুধ বা হরমোন থেরাপিও দিতেন। পাখিদের সম্পূর্ণ বন্ধ্যা করে দেওয়ার জন্য অস্ত্রোপচারের মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা আসলেই চরম পর্যায়ের পাগলামি।”
গবেষকেরা মনে করেন, পাখির এই আচরণ তখনই উদ্বেগের কারণ হতে পারে যখন তা শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করে। অন্যথায় এটি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। গবেষণার ফলাফল বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘ইকোলজি অ্যান্ড ইভোলিউশন’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
সিএ/এমআর


