কুড়িগ্রামের রৌমারীতে প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এক প্রেমিকযুগলের আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের সিদ্ধান্তে আলাদা হতে না চেয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নার সেই দৃশ্য ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে রৌমারী উপজেলার রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদে। শুক্রবার (৮ মে) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া কবির হোসেন (১৯) ও এক তরুণী গত ২৭ এপ্রিল বাড়ি থেকে একসঙ্গে বেরিয়ে যান। কবির হোসেন উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের পদ্মার চর এলাকার জাহিদুর ইসলামের ছেলে। তরুণী রৌমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পাওয়ায় তরুণীর মা আজিরণ বেগম গত ৩ মে রৌমারী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ৭ মে ইউনিয়ন পরিষদে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে তরুণীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তাদের মধ্যে কান্না ও ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
উপস্থিত ব্যক্তিদের কেউ একজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরে সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ছেলে ও মেয়েটি প্রেমের সম্পর্কের কারণে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠক করা হয়। তবে তারা কেউ কাউকে ছেড়ে যেতে রাজি ছিল না। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী জানান, পরিষদ থেকে ছেলে ও মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া অপহরণ মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রামে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সিএ/এমই


