বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম তিন্দু এলাকার ‘তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ জাতীয়করণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনার সময় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের বিষয়ে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান জানান, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেনের সংগ্রামের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। দুর্গম এলাকায় বিদ্যালয় পরিচালনা ও সহকর্মীদের বেতন নিশ্চিত করতে তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন ছুটির দিনে থানচি-তিন্দু-রেমাক্রী নৌপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে আয় করেন। শুধু মার্চ ও এপ্রিল মাসে তিনি প্রায় ৪০ হাজার টাকা উপার্জন করেন, যার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা সহকর্মীদের বেতন পরিশোধে ব্যয় করেন।
আতিকুর রহমান বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সচল রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। সেই পরিস্থিতিতে প্রধান শিক্ষকের আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধ অনুপ্রেরণার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
বিষয়টি জানার পরপরই প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় নিয়মিত বেতন পরিশোধ করতে পারে না। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া এবং বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা দীর্ঘদিন ধরে কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় প্রধান শিক্ষক নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের পরিবর্তে নৌকা চালিয়ে অর্জিত অর্থ শিক্ষকদের বেতন পরিশোধে ব্যয় করে আসছেন। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ানোর পর বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়েও গুরুত্ব পায়।
সিএ/এমআর


