ফুটবল বিশ্বকাপে এবার শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, আবেগ আর মানবিকতার এক বিশেষ গল্পও জায়গা করে নিয়েছে। কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহার জন্য অপেক্ষা করছে বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত একটি মুহূর্ত—গ্যালারিতে বসে তার খেলা দেখবেন মা।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই আলোচনায় উঠে আসেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে গোলশূন্য ড্র এনে দেন তিনি। ম্যাচ শেষে মাঠের নায়ক হয়ে উঠলেও ব্যক্তিগতভাবে তার মনে ছিল এক অপূর্ণতা—এই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারেননি তার মা।
সেই আক্ষেপই শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে।
বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের হাউজের মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ভোজিনহার মা আনা কান্দিদা এভোরা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী রবিবার (২১ জুন) উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই মায়ামিতে মা-ছেলের পুনর্মিলন হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে কেপ ভার্দেকে খুব কম মানুষই সুযোগ দিয়েছিল। অনেকেই একতরফা ফলের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেন ভোজিনহা। ধারাবাহিক সেভে স্পেনের আক্রমণভাগকে থামিয়ে দেন তিনি এবং দলকে এনে দেন মূল্যবান একটি পয়েন্ট।
ম্যাচ শেষে দেওয়া এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ভোজিনহা জানান, উচ্চ ব্যয়ের কারণে তার মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে এসে খেলা দেখা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তা নজরে আসে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের।
পরে ডেমোক্রেট নেতা হাকিম জেফরিস বিষয়টি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে মানবিক বিবেচনায় সহায়তার অনুরোধ জানান।
পরবর্তীতে ভোজিনহার মায়ের ভিসা প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার যাতায়াতের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
রবিবার গ্রুপ ‘এইচ’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। এবার গ্যালারিতে মায়ের উপস্থিতি নিয়ে মাঠে নামবেন ভোজিনহা। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই আবেগঘন পুনর্মিলনের পর তিনি আরও একটি স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারেন কি না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।
সিএ/এমই


