মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের কথা উঠলে সাধারণত বড় কোনো সমস্যা, পারিবারিক সংকট বা কর্মক্ষেত্রের চাপের কথাই সামনে আসে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের জীবনের কিছু ছোট ছোট অভ্যাসও অজান্তে মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এসব অভ্যাস প্রথমে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে না হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে ছোট ছোট চাপ একসময় বড় মানসিক সমস্যার রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করা এমন একটি অভ্যাস, যা দিনের শুরুতেই মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত তথ্যের চাপে ফেলে। নোটিফিকেশন, বার্তা ও নানা ধরনের খবর একসঙ্গে দেখার ফলে দিনের শুরুতেই মানসিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
একইভাবে ঘুমানোর আগমুহূর্ত পর্যন্ত স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকাও মানসিক চাপ বাড়ায়। এতে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ পায় না এবং ঘুমের গুণগত মান কমে যায়। ফলে পরদিনও ক্লান্তি ও চাপ থেকে যায়।
বিশ্রামকে অনেকেই প্রয়োজনের পরিবর্তে পুরস্কার হিসেবে দেখেন। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম শরীর ও মনের মৌলিক চাহিদা। এ চাহিদা পূরণ না হলে মানসিক চাপ বাড়তে পারে।
আরেকটি সাধারণ সমস্যা হলো নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে অন্যকে খুশি করার জন্য সবকিছুতে সম্মতি দেওয়া। সামর্থ্য বা আগ্রহ না থাকলেও ‘না’ বলতে না পারার কারণে অতিরিক্ত দায়িত্ব তৈরি হয় এবং তা মানসিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শুধু সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের পথে না এগোলে মানসিক অস্থিরতা আরও বাড়ে। একই সমস্যা নিয়ে বারবার ভাবা মস্তিষ্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
খাদ্যাভ্যাসও মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। সময়মতো খাবার না খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করে, যা মেজাজ ও মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলে।
মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এসব ছোট অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের অনেক মানসিক চাপ কমানো সম্ভব। সচেতনভাবে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা সহজ হয়।
সিএ/এমআর


