উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী নৌবন্দর বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। নাব্যতা সংকট, পর্যাপ্ত জেটির অভাব এবং আধুনিক পণ্য পরিবহন সুবিধার ঘাটতির কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দেশের বিভিন্ন সমুদ্র ও নদীবন্দর থেকে সার, কয়লা, সিমেন্ট, জ্বালানি তেল, চাল ও গমসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজ নিয়মিত বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে আসত। তবে যমুনা নদীর বিভিন্ন অংশে নাব্যতা কমে যাওয়ায় বড় জাহাজগুলো এখন সরাসরি বন্দরে পৌঁছাতে পারছে না।
এর ফলে মাঝনদীতে বড় জাহাজ থেকে ছোট লাইটারেজ জাহাজে পণ্য স্থানান্তর করে বন্দরে আনতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় জাহাজ ঘাটে ভিড়তে না পারায় পণ্য পরিবহনের ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠছে।
বন্দরের ইজারাদারদের অভিযোগ, শুধু নাব্যতা সংকট নয়, পর্যাপ্ত জেটি, গুদাম ও শেডের অভাবও কার্যক্রমে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক লোডিং-আনলোডিং সুবিধা না থাকায় বন্দরের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
তাদের মতে, বন্দরের কার্যক্রম কমে যাওয়ায় হাজারো শ্রমিকও কাজের সংকটে পড়েছেন। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের পোর্ট অফিসার মাহাবুব আলম তায়েব জানিয়েছেন, বন্দরটির গুরুত্ব বিবেচনায় এটিকে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার পাশাপাশি আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তুতের কাজ চলছে।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ডা. এম এ মুহিত বলেন, উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে বন্দরটির উন্নয়ন জরুরি। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ড্রেজিং ও অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, ১৬ জেলার সার, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে দ্রুত ড্রেজিং ও আধুনিকায়নের কাজ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
সিএ/এমআর


