ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পারস্পরিক আচরণের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। দেখা-সাক্ষাতের সময় সালাম বিনিময় যেমন গুরুত্বপূর্ণ আমল, তেমনি বিদায়ের সময়ও ইসলামে নির্দিষ্ট আদব অনুসরণের নির্দেশনা রয়েছে।
হাদিসে সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“তোমরা যতক্ষণ ঈমান আনবে না, ততক্ষণ বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর যতক্ষণ তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে না, ততক্ষণ তোমরা মুমিনও হতে পারবে না। আমি কি তোমাদেরকে একটি কাজের কথা বলে দেবো, যা করলে তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমাদের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রচলন ঘটাও। (মুসলিম, হাদিস: ৫৪)”
পবিত্র কোরআনেও সালামকে জান্নাতবাসীদের অভিবাদন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,
“সেখানে তাদের অভিবাদন হবে সালাম। (সুরা ইউনুস, আয়াত: ১০)”
সমাজে প্রচলিত একটি অভ্যাস হলো সাক্ষাৎ শেষে ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলে বিদায় নেওয়া। এ বিষয়ে ইসলামি চিন্তাবিদ ও ফকিহদের মতে, কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ কিংবা বিদায়ের সময় সালাম দেওয়া সুন্নত। হাদিসে বিদায়ের সময়ও সালাম দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“যখন তোমাদের কেউ কোনো মজলিসে পৌঁছাবে তখন সালাম দেবে। যদি অনুমতি পাওয়া যায় তবে বসে পড়বে। এরপর যখন মজলিস ত্যাগ করবে, তখনো সালাম দেবে। কারণ, প্রথম সালাম দ্বিতীয় সালাম অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয় (বরং উভয় সালামের গুরুত্ব সমান)। (তিরমিজি, হাদিস: ২/১০০)”
আলেমদের মতে, বিদায়ের সময় সালামের পরিবর্তে শুধু ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলা সুন্নত নয়। তবে সালামের আগে বা পরে দোয়া হিসেবে ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলা বৈধ এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই।
কারণ ‘আল্লাহ হাফেজ’ বাক্যের অর্থ হলো আল্লাহ আপনাকে নিরাপদ রাখুন। তাই এটি দোয়ার অর্থে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বিদায়ের সুন্নতি পদ্ধতি হলো সালাম প্রদান করা।
সিএ/এমআর


