হজ ও ওমরাহ পালনের সময় নির্দিষ্ট কিছু ভুল বা বিধি লঙ্ঘনের কারণে ইসলামে ‘দম’ দেওয়ার বিধান রয়েছে। দম বলতে বোঝানো হয় কোরবানির উপযুক্ত একটি পশু জবাই করে দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, একটি ছাগল, ভেড়া, দুম্বা অথবা গরু, মহিষ কিংবা উটের এক-সপ্তমাংশ দম হিসেবে কোরবানি করা যায়। এ দম হারামের সীমানার মধ্যেই আদায় করতে হয় এবং এর গোশত সম্পূর্ণ দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতে হয়। দম প্রদানকারী নিজে সেই গোশত খেতে পারেন না।
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হজ ও ওমরাহর সময় বিভিন্ন ধরনের ভুলের কারণে দম ওয়াজিব হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো মিকাত পার হওয়ার আগে ইহরাম না বাঁধা। নির্ধারিত সীমা অতিক্রমের পর ইহরাম বাঁধতে হলে মিকাতের বাইরে ফিরে যেতে হয়, অন্যথায় দম দিতে হয়।
ইহরাম অবস্থায় শরীর বা কাপড়ে অতিরিক্ত সুগন্ধি ব্যবহার করলেও দম ওয়াজিব হয়। একইভাবে নারীদের হাতে মেহেদি লাগানো বা পুরুষদের পুরো দাড়ি কিংবা হাতের তালুতে মেহেদি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এ বিধান প্রযোজ্য।
এ ছাড়া ইহরাম অবস্থায় সেলাই করা পোশাক দীর্ঘ সময় পরিধান করা, মাথা বা মুখ ঢেকে রাখা, পায়ের হাড় ঢেকে যায় এমন জুতো বা মোজা পরা, চুল বা পশম কাটা কিংবা উপড়ে ফেলার ক্ষেত্রেও দম দিতে হতে পারে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কিছু বিশেষ কাজ হজ নষ্ট হওয়ার কারণও হতে পারে। যেমন, আরাফার অবস্থানের আগে সহবাস করলে হজ বাতিল হয়ে যায় এবং দম আদায় করার পাশাপাশি পরবর্তী বছর আবার হজ আদায় করতে হয়।
তাওয়াফ, মুজদালিফা অবস্থান, কঙ্কর নিক্ষেপ এবং বিদায়ী তাওয়াফ সংক্রান্ত কিছু ভুলের কারণেও দম ওয়াজিব হয় বলে জানিয়েছেন আলেমরা।
এ ছাড়া কিছু ভুলের ক্ষেত্রে পূর্ণ দম নয়, বরং সদকা দেওয়ার বিধান রয়েছে। সদকা বলতে ফিতরার সমপরিমাণ অর্থ বা খাদ্য দরিদ্রদের মধ্যে দান করাকে বোঝানো হয়েছে।
ছোটখাটো সুগন্ধি ব্যবহার, স্বল্প সময়ের জন্য সেলাই করা পোশাক পরা, অল্প চুল কাটা বা কিছু নখ কাটার মতো ক্ষেত্রে সদকা ওয়াজিব হতে পারে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, হজ ও ওমরাহর বিধানগুলো যথাযথভাবে পালন করা এবং ভুল হলে দ্রুত কাফফারা আদায় করা একজন মুসল্লির দায়িত্ব।
সিএ/এমআর


