মহাবিশ্বে ঘুরে বেড়ানো গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবীতে একসময় ডাইনোসরসহ অসংখ্য প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছিল—এই ধারণা এখন বিজ্ঞানীদের কাছে সুপ্রতিষ্ঠিত। প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর জন্মের পর থেকে এর দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসকে বিভিন্ন সময়পর্বে ভাগ করে এই রহস্য উন্মোচনের পথ তৈরি হয়েছে।
পৃথিবীর ইতিহাসকে প্রধানত দুটি মহাযুগে ভাগ করা হয়—ক্রিপ্টোজয়িক ও ফ্যানেরোজোয়িক। প্রথম মহাযুগে প্রাণের সূচনা থেকে শুরু করে প্রাথমিক জীবনের বিকাশ ঘটে। পরবর্তী ফ্যানেরোজয়িক মহাযুগে দৃশ্যমান প্রাণের বিস্তার ঘটে এবং এই সময়েই ডাইনোসরদের উত্থান ও পতন ঘটে।
মেসোজোয়িক যুগে ডাইনোসরদের দীর্ঘ ১৬৫ মিলিয়ন বছরের রাজত্বের অবসান ঘটে ক্রিটেসিয়াস পর্বের শেষে। এই সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হলো কে-টি বাউন্ডারি, যা ভূত্বকের একটি বিশেষ স্তর। এই স্তরে অস্বাভাবিক পরিমাণ ইরিডিয়াম পাওয়া যায়, যা পৃথিবীতে বিরল হলেও গ্রহাণুতে প্রচুর থাকে।
১৯৭৭ সালে ইতালির গুবিও এলাকায় গবেষণার সময় এই স্তরের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে বিজ্ঞানীরা বিশ্লেষণ করে দেখেন, এই স্তরে ইরিডিয়ামের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। এর ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, একটি বিশাল গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত হেনেছিল, যার ফলেই ডাইনোসরদের বিলুপ্তি ঘটে।
পরবর্তীতে মেক্সিকোর ইউকাতান উপদ্বীপের কাছে সমুদ্রতলে বিশাল একটি গর্তের সন্ধান পাওয়া যায়, যা চিক্সুলুব ইমপ্যাক্ট হিসেবে পরিচিত। এটি সেই গ্রহাণুর আঘাতে তৈরি বলে ধারণা করা হয়। গবেষণায় শক কোয়ার্টজ ও ইরিডিয়ামের উপস্থিতিও এই তত্ত্বকে আরও জোরালো করে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এমন ঘটনা আবারও ঘটার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া এখন সম্ভব হচ্ছে।
সিএ/এমআর


