হঠাৎ কোনো শহরে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলে প্রথম কয়েক মিনিটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিস্ফোরণের পর তেজস্ক্রিয় ধূলিকণা আকাশ থেকে পড়তে শুরু করার আগে সাধারণত ১০ মিনিটের মতো সময় পাওয়া যায়। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নেওয়া জীবন রক্ষার প্রধান উপায়। শক্তপোক্ত ইট বা কংক্রিটের ভবনের ভেতরে, বিশেষ করে বেজমেন্ট বা মাঝামাঝি অংশ তুলনামূলক বেশি নিরাপদ।
বিস্ফোরণের পরপরই দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ করে দিতে হবে, যাতে তেজস্ক্রিয় কণা ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। একই সঙ্গে বাতাস টেনে আনে এমন যন্ত্র যেমন এসি, ফ্যান বা হিটার বন্ধ রাখতে হবে। সাধারণত প্রথম ২৪ ঘণ্টা বাইরে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই জরুরি পরিস্থিতি না হলে অন্তত একদিন ঘরের ভেতরে অবস্থান করাই নিরাপদ। পরিস্থিতি অনুযায়ী দীর্ঘ সময় আশ্রয়ে থাকতে হতে পারে।
বাইরে থাকলে বা যানবাহনে থাকলে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। বিস্ফোরণের আলো বা আগুনের দিকে সরাসরি তাকানো বিপজ্জনক, এতে চোখের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এ সময় মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা ঢেকে রাখতে হবে এবং মুখ-নাক কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা উচিত। গাড়িতে থাকলে দ্রুত নিরাপদে থামিয়ে জানালা বন্ধ করে মাথা ঢেকে রাখতে হবে।
তেজস্ক্রিয় ধূলিকণার সংস্পর্শে এলে দ্রুত পোশাক খুলে ফেলতে হবে এবং পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে শরীর ধুতে হবে। এতে শরীরের বেশির ভাগ তেজস্ক্রিয় কণা দূর করা সম্ভব। আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা জরুরি।
পারমাণবিক হামলার ঝুঁকি থাকলে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। নিরাপদ আশ্রয় নির্ধারণ, খাবার পানি, শুকনো খাবার, ফার্স্ট এইড কিট এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুত রাখা জীবন বাঁচাতে সহায়ক হতে পারে।
সূত্র: ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন রেডিওলজিক্যাল প্রোটেকশন
সিএ/এমআর


