কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি গার্মেন্টসে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের ঘটনায় গুরুতর আহত তিন শ্রমিকের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। অপর একজন এখনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। বিষয়টি শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন আমীর শার্টস লিমিটেড গার্মেন্টসের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার একরামুল হক।
মৃতদের মধ্যে একরাম হোসেন (৩৫) শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সারপটি গ্রামের মৃত মহসীন ভুইয়ার ছেলে এবং গার্মেন্টসটির বয়লার অপারেটর ও ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাজ্জাদ হোসেন নামে এক নিরাপত্তা কর্মী। তিনি পাশের সদর দক্ষিণ উপজেলার শুয়াগাজী কাজীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
এ ঘটনায় আহত ওয়েল্ডার রবিউল হোসেন বর্তমানে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ৮টার দিকে গার্মেন্টসের বয়লার অপারেটর একরাম বিদ্যুতের মূল সুইচ অন করার সময় হঠাৎ করে বৈদ্যুতিক লাইনে শর্ট সার্কিট হয়। এতে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হলে নিরাপত্তা কর্মী সাজ্জাদ, একরাম এবং ওয়েল্ডার রবিউল আহত হন।
দুর্ঘটনার পর সহকর্মীরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
আমীর শার্টস লিমিটেড গার্মেন্টসের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার একরামুল হক বলেন, গত বুধবার সকালে ফ্যাক্টরি চালুর সময় সুইচ অন করার সময় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে তারা গুরুতর আহত হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মারা যায়।
তিনি আরও জানান, কোম্পানির নিয়ম এবং বিজিএমইএ-এর বিধি অনুযায়ী নিহত ও আহতদের সব ধরনের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের পড়াশোনার দায়িত্বসহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হবে।
সিএ/এমই


