বর্তমান সময়ে শিশুকে শান্ত রাখতে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। খাওয়ানো থেকে শুরু করে ঘুম পাড়ানো পর্যন্ত নানা কাজে স্ক্রিনকে সহজ সমাধান হিসেবে ব্যবহার করছেন অনেক অভিভাবক। তবে এই অভ্যাস শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের মস্তিষ্ক অত্যন্ত দ্রুত বিকাশ লাভ করে। এই সময়েই ভাষা শেখা, মনোযোগ তৈরি এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতার ভিত্তি গড়ে ওঠে। কিন্তু অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে বাস্তব অভিজ্ঞতার ঘাটতি তৈরি হয়, যা স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্ক্রিনে অতিরিক্ত সময় কাটালে শিশুর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কমে যায়। চোখে চোখ রেখে কথা বলা বা প্রতিক্রিয়া আদান-প্রদান কম হওয়ায় ভাষা ও সামাজিক দক্ষতা গঠনে ব্যাঘাত ঘটে।
এছাড়া অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে শিশুদের ভাষা শেখার গতি কমে যেতে পারে। তারা বাস্তব মানুষের সঙ্গে কম কথা বলার কারণে শব্দভান্ডার গঠনে পিছিয়ে পড়ে।
দ্রুত পরিবর্তনশীল স্ক্রিন কনটেন্ট শিশুর মনোযোগেও প্রভাব ফেলে। ফলে বাস্তব জীবনের ধীরগতির কাজগুলোতে মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা দেখা দেয়। একই সঙ্গে ঘুমের আগে স্ক্রিন ব্যবহারে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ ব্যাহত হয়, যা ঘুমের গুণগত মান কমিয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শিশু যদি বিরক্ত হলেই স্ক্রিন পায়, তবে সে নিজে থেকে আবেগ নিয়ন্ত্রণ শেখার সুযোগ হারায়। এতে ভবিষ্যতে আচরণগত সমস্যা তৈরি হতে পারে।
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের পরামর্শ অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৪ মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে স্ক্রিন ব্যবহার যতটা সম্ভব সীমিত রাখা উচিত। প্রয়োজনে অভিভাবকের উপস্থিতিতে সীমিত সময়ের জন্য মানসম্মত কনটেন্ট দেখানো যেতে পারে।
শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য প্রযুক্তির পরিবর্তে গল্প বলা, খেলাধুলা, গান শোনানো এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএ/এমআর


