মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল জানিয়েছে, শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দেশটির বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্য করে ইরান একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এসব হামলার মধ্যে একটি ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সক্রিয় করা হয়। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্রের স্প্লিন্টারের আঘাতে তেল আবিবের একটি রেলস্টেশনে আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদারের হুমকি দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন এখনও ইরানের অবশিষ্ট অবকাঠামো ‘ধ্বংস করা শুরুই করেনি। সেতুর পর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, সেতুসহ বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনে ইরানিদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা যাবে না।
এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং কয়েক লাখ মানুষের জীবনে প্রভাব পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই অর্থনৈতিক ও শিল্প স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। যুদ্ধের প্রভাব রণক্ষেত্রের বাইরেও বিস্তৃত হয়ে পড়ছে।
সিএ/এএ


