পদার্থবিজ্ঞান এবং গণিতের জগতে এক অবিশ্বাস্য মিল দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মৌলিক সংখ্যা এবং কৃষ্ণগহ্বরের সিঙ্গুলারিটির মধ্যে এক ধরনের অদ্ভুত সম্পর্ক বিদ্যমান।
মৌলিক সংখ্যা হলো সেই সংখ্যাগুলো যেগুলোকে ১ এবং নিজ সংখ্যা ছাড়া অন্য কোনো সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা যায় না। পদার্থবিজ্ঞানে যেমন ইলেকট্রন বা প্রোটনকে মৌলিক কণা ধরা হয়, ঠিক তেমনি গণিতের জগতে মৌলিক সংখ্যা হলো “সংখ্যার মৌলিক কণা”।
কৃষ্ণগহ্বরের কেন্দ্রে সিঙ্গুলারিটি থাকে, যেখানে মহাকর্ষ বল এত শক্তিশালী যে স্থান-কাল ধ্বংসপ্রায় হয়ে যায়। ১৯৬০-এর দশকে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন, সিঙ্গুলারিটির চারপাশে এক অদ্ভুত ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। মজার বিষয় হলো, এই বিশৃঙ্খলা গণিতের মৌলিক সংখ্যার বণ্টনের প্যাটার্নের সঙ্গে মিলছে।
১৮৫৯ সালে জার্মান গণিতবিদ রিম্যান রিম্যান হাইপোথিসিস নামক একটি সূত্র তৈরি করেন। সূত্রটির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সীমার নিচে কতগুলো মৌলিক সংখ্যা আছে তা অনুমান করা যায়। সূত্রটি এখনও পুরোপুরি প্রমাণিত হয়নি এবং এটি প্রমাণ করতে পারলে ক্লে ম্যাথমেটিকস ইনস্টিটিউট ১০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
১৯৮০-এর দশকে ফরাসি পদার্থবিদ বার্নার্ড জুলিয়া প্রস্তাব দেন, এমন একটি কণা থাকতে পারে যার শক্তির মাত্রাগুলো মৌলিক সংখ্যার মতো। এই কণার নাম দেওয়া হয় প্রাইমন। একসাথে থাকা প্রাইমন কণার গ্যাসকে বলা হয় প্রাইমন গ্যাস। আশ্চর্যজনকভাবে প্রাইমন গ্যাসের গাণিতিক হিসাব রিমানের জিটা ফাংশনের সঙ্গে মিলে যায়।
২০২৫ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ শন হার্টনল এবং তার ছাত্র দেখান, ব্ল্যাকহোলের সিঙ্গুলারিটির কাছের বিশৃঙ্খলার মধ্যে একটি পুনরাবৃত্তি বা প্রতিসাম্য লক্ষ্য করা যায়। যত গভীরে যান, নকশা ততবার ফিরে আসে। এর গাণিতিক রূপ প্রাইমন গ্যাসের সঙ্গে একেবারে মিলে যায়।
পরবর্তীতে গবেষক মেরিন ডি ক্লার্ক দেখান, পাঁচ-মাত্রিক মহাবিশ্বে সাধারণ মৌলিক সংখ্যা যথাযথভাবে ব্যবহার করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন হয় গাউসিয়ান প্রাইম নামক বিশেষ জটিল মৌলিক সংখ্যা, যার মধ্যে কাল্পনিক অংশও থাকে। বিজ্ঞানীরা এই ব্যবস্থার নাম দিয়েছেন কমপ্লেক্স প্রাইমন গ্যাস।
২০২৫ সালের শেষের দিকে গবেষক এরিক পার্লমাটার জিটা ফাংশনের নতুন কাঠামো প্রস্তাব করেন। তিনি ভগ্নাংশ ও অমূলদ সংখ্যাকে এর আওতায় নিয়ে আসেন, যা কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটির রহস্য বোঝার নতুন দিগন্ত খুলেছে।
এ গবেষণার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, মহাবিশ্বের জটিল কাঠামো বুঝতে গণিতই প্রকৃতির সবচেয়ে স্বাভাবিক ভাষা।
সিএ/এমআর


