মানুষের সামাজিক অবস্থান, সম্পদ কিংবা খ্যাতি নয়; বরং ঈমান, তাকওয়া ও নেক আমলই আল্লাহর কাছে মর্যাদার প্রকৃত মানদণ্ড—ইসলামের শিক্ষা এমনটাই বলে। বাহ্যিক জৌলুশ দেখে মানুষকে মূল্যায়ন না করে তার চরিত্র, বিশ্বাস ও আমলকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে ইসলামি শিক্ষায়।
হজরত আবু আব্বাস সাহল ইবনে সাদ সায়েদি (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন এক ব্যক্তি নবী কারিম (সা.)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর পাশে বসা এক ব্যক্তিকে ওই ব্যক্তির সম্পর্কে মতামত জানতে চান।
জবাবে তিনি বলেন, লোকটি সমাজে সম্মানিত। যদি তিনি কাউকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, তা গ্রহণ করা হবে এবং কারও জন্য সুপারিশ করলে সেটিও গ্রহণযোগ্য হবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে নীরব থাকেন। কিছুক্ষণ পর আরেক ব্যক্তি সেখান দিয়ে গেলে তিনি একই প্রশ্ন করেন। তখন উত্তরে বলা হয়, তিনি একজন দরিদ্র মুসলমান। তিনি কাউকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা গ্রহণ করা হবে না, সুপারিশ করলেও গুরুত্ব পাবে না এবং তাঁর কথাও মানুষ শুনবে না।
তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ওরকম খ্যাতিমানদের চেয়ে এমন সাধারণ লোক পুরো দুনিয়া ভরে যাওয়া উত্তম।’ -সহিহ বোখারি: ৬৪৪৭
হাদিসের আলোকে ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, মানুষের প্রকৃত মূল্য তার ধন-সম্পদ, পদমর্যাদা কিংবা সামাজিক অবস্থান দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বরং আল্লাহর কাছে মর্যাদা নির্ধারিত হয় তার ঈমান, ইখলাস, তাকওয়া ও সৎকর্মের ভিত্তিতে।
ইসলাম বাহ্যিক চাকচিক্যের পরিবর্তে অন্তরের বিশুদ্ধতাকে গুরুত্ব দেয়। অনেক সময় যে ব্যক্তি সমাজে প্রভাবশালী বা পরিচিত, সে আল্লাহর কাছে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী নাও হতে পারে। আবার যে ব্যক্তি মানুষের চোখে সাধারণ বা অখ্যাত, সে আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় হতে পারে।
এ শিক্ষা মুসলমানদের অহংকার থেকে দূরে থাকারও নির্দেশনা দেয়। বংশ, সম্পদ, সৌন্দর্য কিংবা ক্ষমতার কারণে নিজেকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করা ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও সাধারণ মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরও শিক্ষা দেয় ইসলাম। তাদের অবজ্ঞা করা বা তুচ্ছজ্ঞান করা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।
ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, মানুষের অন্তরের প্রকৃত অবস্থা একমাত্র আল্লাহই জানেন। তাই বাহ্যিক অবস্থা দেখে কারও চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা উচিত নয়।
ধন-সম্পদ ও খ্যাতি ক্ষণস্থায়ী হলেও নেক আমল ও তাকওয়া মানুষের জন্য স্থায়ী সফলতার পথ তৈরি করে। এ কারণে মুসলমানদের উচিত পারস্পরিক সম্মান, সদ্ভাব ও ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে একে অপরকে মূল্যায়ন করা।
সিএ/এমআর


