নোয়াখালীর সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৬ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি স্থানীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটান। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর সুধারাম মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা হওয়ার পর শুক্রবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে শনিবার দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে আরও ২৩ জনকে আটক করা হয়।
রোববার (৭ জুন) গ্রেপ্তার ২৪ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
এদিকে, একই ঘটনার রেশ ধরে শনিবার (৭ জুন) বিকেলে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের পশ্চিম শুল্লকিয়া এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং ছাত্রদলের কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সময় একটি আওয়ামী লীগ কার্যালয় এবং বিএনপির এক কর্মীর মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সিএ/এমই


