স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে অনেকের মধ্যে ধারণা রয়েছে, ৪০ বছরের পর হৃদ্রোগ বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি থাকলে ডিমের কোলেস্টেরল ক্ষতিকর হতে পারে। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়।
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষের প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়ায় সাধারণত কোনো সমস্যা নেই। ডিমে থাকা পুষ্টি উপাদান বয়স বাড়লেও শরীরের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ থাকে। নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক জটিলতা ছাড়া অধিকাংশ মানুষের জন্য প্রতিদিন ডিম খাওয়া নিরাপদ।
ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকলেও তা এমন মাত্রায় নয়, যা সরাসরি রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বরং ডিমে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ আমিষ, ভিটামিন এ, ই, বি কমপ্লেক্স, আয়রন, জিংক, সেলেনিয়াম ও কোলিনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিশেষ করে ভিটামিন বি১২ শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা প্রাণিজ উৎস থেকেই বেশি পাওয়া যায়।
নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে পারে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে। তবে খাদ্যাভ্যাসের সামগ্রিক চিত্রই স্বাস্থ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার, প্রক্রিয়াজাত মাংস, মিষ্টি বা অনিয়মিত জীবনযাপন বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সেদ্ধ, পোচ, অমলেট বা যেকোনোভাবে ডিম খাওয়া যেতে পারে। দেশি বা ফার্মের ডিম—উভয় ক্ষেত্রেই তেমন পার্থক্য নেই।
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও সাধারণত প্রতিদিন একটি ডিম খেতে পারেন। তবে কোনোদিন শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকলে বা রক্তচাপ বেশি থাকলে সে দিন ডিম না খাওয়াই ভালো।
দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা যাদের ডিমে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন।
প্রয়োজনে কেউ একাধিক ডিমও খেতে পারেন, বিশেষ করে যারা কঠোর ব্যায়াম করেন বা আমিষের ঘাটতি রয়েছে। তবে নিয়মিত একাধিক ডিম খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সিএ/এমআর


