দেশের অন্যান্য জেলার মতো নেত্রকোনাতেও ধীরে ধীরে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। জেলায় এখন পর্যন্ত ১১ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি আরও ২৬ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে আটজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে আটজন, পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন এবং আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আক্রান্তদের মধ্যে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরিফ নামের এক শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বুধবার (১ এপ্রিল) ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি বিকেলে নিশ্চিত করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা।
সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, আক্রান্ত শিশুদের বয়স ছয় মাস থেকে তিন বছরের মধ্যে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে হাসপাতালে আসা শিশুদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হাম শনাক্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে চিকিৎসা নিতে আসা অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধের ঘাটতি রয়েছে। এক শিশুর অভিভাবক ফুলন রাণী সরকার বলেন, ‘আমার শিশুর তিন দিন ধরে জ্বর ছিল। পরে শরীরে দানা ওঠে। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা জানান, এটি হাম। তবে আইসোলেশন ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধের ঘাটতি রয়েছে।’
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু রায়হান খান জানান, হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য হাসপাতালে আলাদা কর্নার চালু করা হয়েছে এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে ভিটামিন এ ক্যাপসুল, প্যারাসিটামল, অ্যান্টিবায়োটিক ও চোখের ড্রপের সংকট রয়েছে, ফলে অনেক অভিভাবককে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। অক্সিজেন সরবরাহে সাময়িক সমস্যা থাকলেও তা এখন স্বাভাবিক হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ এবং সময়মতো টিকা না নিলে এটি শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা বলেন, আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং হাসপাতালে টিকার কোনো সংকট নেই। পাশাপাশি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সিএ/এএ


