ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলা চলার মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের জীবন এক ভয়াবহ বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। বেসামরিক এলাকা এবং ছোট ব্যবসাগুলোর ওপর হামলা চলছে, যা নগরবাসীর জন্য শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার পরিচায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তেহরানের ৪০ বছর বয়সী আহমদ রেজা তার ছোট চশমার দোকান চালাতেন। দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও গড়ে তোলা ব্যবসা এক রাতের মধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমার সারা জীবনের সব সঞ্চয় শেষ। বছরের পর বছর ধরে যা কিছু গড়ে তুলেছিলাম, তা চোখের পলকে বিলীন হয়ে গেল।” হামলায় তিনি প্রায় ১ লাখ মার্কিন ডলারের ক্ষতি অনুমান করছেন। আহমদ নিশ্চিত, তার দোকানের আশপাশে কোনো সামরিক অবকাঠামো ছিল না।
মিনা নামের এক বিউটি পারলারের কর্মীও একই বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। পারলার ধ্বংস হওয়ায় তিনি ও সহকর্মীরা বেকার হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা এখন কী করব জানি না। আমাদের মালিক জায়গাটি চালু রাখতে অনেক পরিশ্রম করেছিলেন। এখন আমরা সবাই বেকার।”
নাগমেহ, ২৯ বছরের তরুণী উদ্যোক্তা, তার ছোট পোশাক ব্র্যান্ড চালাতেন। হামলায় তাদের স্টুডিও পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন, “জীবন যখনই আমাদের ছিটকে ফেলে দেয়, আমরা আবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এরপর মনে হয় যেন কেউ আবারও আমাদের গলা চেপে ধরেছে।”
তেহরানজুড়ে সাধারণ মানুষ এখন ভয়, ক্ষোভ এবং অনিশ্চয়তার আবহে আছে। তারা জানে না সংঘাত কতদিন চলবে বা এতে কোনো পক্ষের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে কিনা। তাদের জন্য যুদ্ধ আর কৌশল বা রাজনীতি নয়, এটি টিকে থাকার লড়াই। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও তরুণ উদ্যোক্তারা মূলত হারানোর শঙ্কায় আছেন—আর্থিক ক্ষতি, স্থিতিশীলতার ক্ষতি, এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ক্ষতি।
“আমরা আটকা পড়ে গেছি,” নাগমেহ বলেন, “এ যুদ্ধ আমরা চাইনি, অথচ আমাদের তার মধ্যেই থাকতে হচ্ছে।”
সিএ/এমই


