গত কয়েক বছরে বৈশ্বিক আবহাওয়াকে অস্থির করে তোলা এল নিনো আবারও ফিরে আসতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। প্রশান্ত মহাসাগরকেন্দ্রিক এই জলবায়ু চক্র অতীতে যেমন তীব্র বৃষ্টি, খরা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির মতো চরম পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তেমন পরিস্থিতি পুনরায় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যায়, এল নিনো ও লা নিনা মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা এবং বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। স্বাভাবিক সময়ে পূর্ব দিকের বায়ুপ্রবাহ উষ্ণ পানি এশিয়ার দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু এল নিনো পরিস্থিতিতে এই বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে উষ্ণ পানি উল্টো দিকে, অর্থাৎ আমেরিকার উপকূলের দিকে সরে আসে। এর ফলে বৈশ্বিক আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়।
এই পরিবর্তনের প্রভাবে কোথাও অতিবৃষ্টি, আবার কোথাও তীব্র খরার সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে লা নিনা অবস্থায় আবহাওয়া ভিন্নভাবে প্রভাবিত হয়—এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশে বেশি বৃষ্টিপাত এবং আটলান্টিকে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বাড়ে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে লা নিনা দুর্বল হয়ে নিরপেক্ষ অবস্থার দিকে যাচ্ছে। তবে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে এল নিনো ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুন থেকে আগস্টের মধ্যে এর সম্ভাবনা ৬০ শতাংশের বেশি হতে পারে এবং বছরের শেষ পর্যন্ত তা স্থায়ী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের নিচের স্তরের পানির তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী এল নিনোর ইঙ্গিত দিতে পারে। যদিও এই ধরনের পূর্বাভাসে কিছু অনিশ্চয়তা থাকে, তবুও আগাম সতর্কতা নেওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্টে সাউলো বলেন, ‘এল নিনো এবং লা নিনার এই আগাম পূর্বাভাসগুলো আমাদের কোটি কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি এবং পানি ব্যবস্থাপনার মতো জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতগুলোর জন্য এই পূর্বাভাসগুলো লাইফ জ্যাকেটের মতো কাজ করে। এটি শুধু দুর্যোগের ঝুঁকিই কমায় না, বরং শেষ পর্যন্ত অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচায়।’
সিএ/এমআর


