হামের লক্ষণ নিয়ে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকায় পাঠানোর পর এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে রোববার (২৯ মার্চ) তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছিল।
মারা যাওয়া শিশুর নাম মালিহা। সে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার দিকে নগর মাদবরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেনের আট মাস বয়সী মেয়ে। শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত নয় দিনে শরীয়তপুরের তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শরীয়তপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ হয়ে পড়লে রোববার মালিহাকে স্বজনেরা জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তার শরীরে হামের লক্ষণ দেখতে পান এবং নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে সোমবার (৩০ মার্চ) শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে দুই তরুণ ভর্তি হয়েছেন। তারা হলেন শরীয়তপুর পৌরসভার বাঘিয়া এলাকার ইমন মুন্সী (১৯) এবং সদর উপজেলার দাদপুর গ্রামের শাহীন কাজী (১৮)। তাঁদের হাসপাতালের তৃতীয় তলার একটি পৃথক কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিনিধিদল ওই দুই তরুণের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে গেছে। নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গত দুই সপ্তাহে শরীয়তপুরে হামের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় অন্তত ২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে ২৩ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে দেড় বছর বয়সী তাসিফা মারা যায়। সে জাজিরা উপজেলার বড় গোপালপুর গ্রামের জাকির হোসেনের মেয়ে। তার আগের দিন ২২ মার্চ একই হাসপাতালে মারা যায় ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার বালারহাট গ্রামের ইসহাক মিয়ার নয় মাস বয়সী মেয়ে রুকাইয়া।
সদর হাসপাতালে ভর্তি ইমন মুন্সীর বাবা বিপ্লব মুন্সি বলেন, ‘আমার ছেলের সাত দিন ধরে জ্বর ও শরীরে ঘামাচির মতো গোটায় আক্রান্ত। প্রথম দিকে স্থানীয়ভাবে তার চিকিৎসা দিচ্ছিলাম। কিন্তু জ্বর কমছিল না। আজ তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে ভর্তি দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন সে হামে আক্রান্ত হয়েছে।’
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মিতু আক্তার বলেন, সোমবার জ্বর ও শরীরে র্যাশ নিয়ে দুই তরুণ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের লক্ষণ দেখে হামের সন্দেহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের পরামর্শে হাসপাতালের একটি আলাদা কক্ষে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওই দুই তরুণের নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা ঢাকায় নিয়ে গেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ অনুযায়ী ওই দুই তরুণের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন বলেন, ‘আমরা খুব সতর্কতার সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। শিশুবিশেষজ্ঞরা তাদের কাছে আসা রোগীদের সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসা দিচ্ছেন। হামের লক্ষণ মনে হলেই তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।’
সিএ/এমই


