সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার তরুণ ফাহিম আহমদ মুন্না (২০) লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে মারা গেছেন। ফাহিমের শেষ ফেসবুক পোস্টে লেখা ছিল, “মায়ের কথা বারবার মনে পড়ে। দেশে আমাকে এক গ্লাস পানি নিজ হাতে তুলে খেতে হয়নি। আর এখন, সেই আমি প্রবাসে কী করছি। মাকে কত কষ্ট দিয়েছি।”
ফাহিমের বাড়ি কবিরনগর গ্রামে। তাঁর বাবা ফয়েজ উদ্দিন সৌদি আরবে, মা হেলেন আক্তার গৃহিণী। ফাহিম দোয়ারাবাজার সরকারি ডিগ্রি কলেজে পড়তেন এবং এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
ফাহিম ১৬ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে বিদায় নেন। প্রথমে দুদিন সৌদি আরবে ছিলেন, পরে লিবিয়া গেছেন। ২১ মার্চ তাঁকে অন্যান্যদের সঙ্গে ছোট রাবারের নৌযানে (গেমে) নেওয়া হয়। ২৮ মার্চ সাগরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে ফাহিমসহ ১৮ জন মারা যান। নৌযানটি সাগরে ছয় দিন ভেসে থাকার পর ২৭ মার্চ গ্রিসের উপকূলে পৌঁছে জীবিতদের উদ্ধার করা হয়। নিহতদের লাশ পরে সাগরে ফেলা হয়।
ফাহিমের আত্মীয় তাইজুল ইসলাম জানান, ফাহিম পরিবারের একমাত্র সন্তান ও ভরসা ছিলেন। তাঁর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ফলে পরিবার বিপর্যস্ত। স্থানীয় ইউএনও অরূপ রতন সিংহ ফাহিমের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সান্ত্বনা দিয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মিলন খান বলেন, “উন্নত জীবনের আশায় মানব পাচারকারীর প্রলোভনে পড়ে অনেক তরুণ ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে যাচ্ছে। এটি একটি পরিবারের সব শেষ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা।”
সিএ/এমই


