বরিশাল বিভাগে চলতি মার্চ মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে ২০৬ শিশুর শরীরে হামের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৭ শিশু।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে বরগুনা, ঝালকাঠি ও ভোলায় দুজন করে এবং বরিশালে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিষয়ে পর্যাপ্ত নজর না দেওয়ায় হঠাৎ করে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতির কথাও তুলে ধরছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে ১৫ থেকে ২০ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর বেশির ভাগ ঘটনাই সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে। ভোলা জেলায় হামের টিকার কিছু সংকট রয়েছে, তবে বরিশালসহ বিভাগের অন্য পাঁচ জেলায় টিকার পর্যাপ্ত মজুত আছে।
বরিশাল বিভাগের প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সোমবার দুপুরে হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল ৩৪ শিশু। হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, গত তিন মাসে সেখানে হামে আক্রান্ত ১৩০ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসেই ভর্তি হয়েছে ৮৯ জন, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
গত শুক্রবার ওই হাসপাতালে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ওমর নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া সোমবার সকালে আরও এক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ৯ মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে কয়েক দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠি এলাকার বাসিন্দা রহিমা তালুকদার। তিনি বলেন, প্রথমে জ্বর মনে হলেও পরে চিকিৎসকেরা তা হাম হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর তাঁর শিশুকে অন্য রোগীদের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর বলেন, সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সাধারণত শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে সাত মাস বয়সী শিশুকেও এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। হাম ওয়ার্ডে আগে বেডসংকট থাকলেও তা এখন সমাধান করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে দ্রুত ছড়ায়। একই ঘরে থাকলেও সংক্রমণ হতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের সুরক্ষায় সতর্ক থাকতে এবং সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সিএ/এমই


